রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

‘নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি’ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চিন্তার অনুসঙ্গ হওয়া বাঞ্ছনীয়

WP Import ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৩০ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
WP Import ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৩০ পূর্বাহ্ন

‘নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, ডেঙ্গু মুক্ত নওগাঁ গড়ি’- এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রথমবারের মতো নওগাঁয় শুরু হয়েছে প্রতি মাসের প্রথম কর্মদিবসে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়ালের নিজ পরিকল্পনায় জেলাজুড়ে একযোগে এই অভিযান বাস্তবায়িত হচ্ছে। সোমবার নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যার যার অফিসের চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়, তবে এটি নতুন কিছু নয়। বিচ্ছিন্নভাবে এমন উদ্যোগের সমাহার দেশ জুড়েই আছে, শুধু ধরনটা আলাদা। কিন্তু উদ্দেশ্য ও লক্ষকে সামনে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ পরিচালিত হয় না। অর্থাৎ যে উদ্যোগ একটি কার্যক্রমকে সমাজবদ্ধ উপায়ে সফল করা যায়। খুব স্বাভাবিকভাবেই সমাজের লাভালাভের হিসাবটিও সমাজের মানুষের কাছে স্পষ্ট করতে হয়। কর্মযজ্ঞের ফলে ইতিবাচকভাবে সমাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কোন ধরনের পরিবর্তন সাধিত হবে সেটা সমাজের সবশ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। শুধু এখানেই দায়টি শেষ হয় নাÑ এর জন্য সমাজকে সক্ষম করে গড়ে তুলতে হয়। এ দায় রাষ্ট্রের। রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন অবশ্যম্ভাবী।
সামাজিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অনেক দুরূহ কাজ সফল হয়েছে এই দেশেই। স্মর্তব্য যে, গেল শতকের আশির দশকে বৃক্ষরোপন অভিযান এবং ডায়রিয়ার বিরুদ্ধে গৃহে তৈরি ওরস্যালাইন আশাতীত সাফল্য অর্জন করেছে। এ দুটি দৃষ্টান্তের সাথে অংশিজনের প্রত্যক্ষ লাভের হিসাবটি ছিল। ব্যক্তি উদ্যোগে গাছ লাগালে অর্থ উপার্জন হয় এবং ওরস্যালাইনতো জীবন সুরক্ষার মহামূল্যবান পরামর্শ হয়ে ওঠে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টির সামাজিকরূপ আন্দেলনের বিবেচনায় নিতে হবে।
‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্তা ইমানের অঙ্গ’Ñ ইসলাম ধর্ম-দর্শনে মানুষের জন্য এ এক অনন্য নির্দেশনা। অন্যান্য ধর্মের ক্ষেত্রেও মানুষের পবিত্র ও শুদ্ধরূপে জীবন-যাপনের কথাই বলা হয়েছে। তা হলে কেন ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে এর প্রতিফলন হয় না? বোধকরি এর মধ্যে সমাজের জন্য লাভালাভের হিসাবটা স্পষ্ট করা যায় নি। স্বার্থের নানা দ্বন্দ্বে অনেক মানুষ আছেন যারা তাদের দায় সম্পর্কে উদাসীন হন এবং সেটিকে তার অধিকার জ্ঞান করে। এই স্বার্থ-সংশ্লিষ্টতা সমাজ ও রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই মানসিক অবস্থাটা ভেঙ্গে দেয়ার একটা উপায় বের করতে হবে। কেননা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সাথে পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষার দায় আছে। প্রাণ ও প্রকৃতির সুস্থ রাখার দায় আছে। এটা বোধের অংশ আর এই বোধকে জাগাতে হয়। এই জাগরণ হঠাৎ করেই সম্ভব নয়- ধাপে ধাপে এগোতে হয়- যা সঠিক নেতৃত্বের ধারাই পারে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে।
পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষায় পরিচ্ছন্নতা অপরিহার্য, কারণ এটি সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে, রোগ প্রতিরোধ করে, এবং প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন – মাটি, জল, ও বাতাসকে দূষণমুক্ত রাখে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হলে বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে বর্জ্য কমানো, এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন করা জরুরি, যা সুস্থ বাস্তুতন্ত্র বজায় রাখতে সাহায্য করে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখার অঙ্গীকার প্রতিটি মানুষের চিন্তার মধ্যে চর্চার অনুসঙ্গ করে তুলতে হবে।