রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম নির্ধারণ করবে সরকার, ওষুধ সাধারণের জন্য সুলভ মূল্য হবে

WP Import ২৭ আগস্ট ২০২৫ ১২:৪০ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
WP Import ২৭ আগস্ট ২০২৫ ১২:৪০ পূর্বাহ্ন

দেশে উৎপাদিত জীবনরক্ষাকারী ৭৩৯ ওষুধের দাম নির্ধারণের এখতিয়ার উৎপাদনকারীদের পরিবর্তে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে। ১৯৯৪ সালে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ওষুধের দাম নির্ধারণের আংশিক ক্ষমতা দিয়ে জারি করা সার্কুলারকে অবৈধ ঘোষণা করে ১৯৯৩ সালের সরকারি গেজেট পুনর্বহাল করেছেন আদালত। দেশের গণমানুষের স্বার্থ সুরক্ষায় এই রায় ঐতিহাসিক। যার দাবি বিভিন্ন মহল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বারবার উচ্চারিত হচ্ছিল।
১৯৯৪ সালের সার্কুলার চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে সোমবার (২৫ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ঐতিহাসিক এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে স্বাস্থ্য সচিব, ডিজি হেলথ, ডিজি ড্রাগ, ওষুধ মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮২ এর ১১ ধারায় সরকারকে ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। এর ভিত্তিতে ১৯৯৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৭৩৯টি ওষুধের দাম নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করে। কিন্তু ১৯৯৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি সার্কুলারের মাধ্যমে সেই ক্ষমতা সীমিত করে মাত্র ১৭৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে রাখা হয়। বাকি সব ওষুধের দাম নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে। ফলে জীবনদায়ী ওসুধ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। জীবনরক্ষাকারী ওষুধের সহজ প্রাপ্যতা সাধারণ মানুষের অধিকার। কিন্তু ওষুধ শিল্প মালিকরা তাদের ইচ্ছেমত ওষুধের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়েছে। অসুখ-বিসুখে স্বাস্থ্য সুরক্ষা এমন একটি বিষয় যার সাথে মানুষ কোনোভাবেই আপস করতে পারে না। তার সর্বস্ব দিয়ে হলেও স্বজনকে সুস্থ করতে চায়, এর জন্য প্রয়োজনে ভিটেমাটি বিক্রি করে হলেও। মানুষের এই আবেগীয় সম্পর্ককে সহসাই জিম্মি করা হয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ খুবই অসহায় বোধ করেন। প্রিয়জনকে সারিয়ে তুলতে নিজে নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকি গ্রহণ করে থাকেন। সাধারণ মানুষের এই ঝুঁকি নেয়া, আপোসহীন প্রবণতাকে উগ্র পুঁজি বিকাশের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই প্রবণতা অত্যন্ত অনৈতিক, নিষ্ঠুর ও প্রতারণাপূর্ণ।
বাংলাদেশে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের চড়ামূল্য একটি গুরুতর সমস্যা এবং এই মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন দায়বদ্ধতা রয়েছে। আদালত দেশে তৈরি জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম সরকার কর্তৃক নির্ধারণ করার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা দিয়ে সেই দায়বদ্ধতার বাধ্যবাধকতা দিলেন। এই রায় মানুষের জন্য, মানুষের স্বার্থকে সমুন্নত করেছে। এই রায় কার্যকর করা সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, যা ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে রাখতে সাহায্য করবে।