সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

সঙ্কট কাটেনি সিলিন্ডার গ্যাসের, বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন
সঙ্কট কাটেনি সিলিন্ডার গ্যাসের, বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে

ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও ভোক্তা পর্যায়ে এখনো স্বস্তি ফেরেনি এলপিজির দামে। সঙ্কট ও দাম বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনে। রান্না ও ব্যবসা পরিচালনায় বাড়তি খরচের চাপ তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ছে।


কোম্পানি পর্যায়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজশাহীর খুচরা বাজারে তীব্র সংকটে পড়েছে তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি)। শনিবার (১০ জানুয়ারি) পর্যন্ত নগরীর অধিকাংশ খুচরা দোকানে গ্যাস পাওয়া যায়নি। কোথাও কোথাও সীমিত পরিমাণ গ্যাস মিললেও তা বিক্রি হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে।


গেল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বাড়ির সিলিন্ডারের গ্যাস ফুরিয়ে যায় নগরীর টিকাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাকলাইন মোস্তাকের। ওদিন ধর্মঘট চলার কারণে গ্যাস সিলিন্ডার পাননি। শুক্রবারও বিভিন্ন দোকান ঘুরে তিনি গ্যাস সিলিন্ডার পাননি। শনিবার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার কেনেন। তিনি বলেন, দুইদিন কোথাও সিলিন্ডার গ্যাস পাইনি। আমি যে কোম্পানীর সিলিন্ডার ব্যবহার করি তা পাওয়া যায়নি। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখা হয়েছে। এই দুইদিন বাড়িতে রান্না বন্ধ ছিল। বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে বাইরে খেতে হয়েছে।  


নগরীর উপশহর এলাকার গৃহিণী সুরাইয়া শারমিন বলেন, শুক্রবার গ্যাস শেষ হয়ে যায়। এরপর দোকানে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে তারা গ্যাস নেই বলে জানান। সারা শহর ঘুরেও গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি। গ্যাস না পেয়ে বিপাকে পড়েছি। কেননা বাসায় সিলিন্ডার ছাড়া রান্নার কোনো বিকল্প নেই। 


নগরীর বোয়ালিয়া থানার মোড় এলাকার হোটেল মালিক গোলাপ সরদার বলেন, বুধবার ১২ কেজির একটি গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ৩৫০ টাকায় কিনেছিলাম। কিন্তু বৃহস্পতিবার গ্যাস বিক্রেতা জানান কোম্পানির গ্যাস নেই। পরে অন্য কোম্পানির সিলিন্ডার কিনতে হয় ১ হাজার ৫৫০ টাকায়। এভাবে বাড়তি দামে গ্যাস কিনে ব্যবসা চালানো আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। দ্রুত এই সঙ্কটের সমাধান প্রয়োজন।


রহমানিয়া হোটেলের মালিক শওকত খান বলেন, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়ে গেছে। ১৩০৬ টাকার সিলিন্ডার ১৬০০ টাকা নিচ্ছে। জানুয়ারিজুড়েই গ্যাস সিলিন্ডার সঙ্কট থাকবে বলছে। আমাদের ভবনেই রান্না হয়। তাই খড়িতে রান্নার সুযোগ নাই। গ্যাসেই ভরসা। এভাবে সঙ্কট সৃষ্টি হলে এবং দাম বেড়ে গেলে অনেক সমস্যা। 


মেমোরি হোটেলের মালিক সেলিম ইলাহি বলেন, আমাদের গ্যাস ও খড়ি দুটোই চলে। যে পরিমাণ গ্যাস লাগে তা পাচ্ছি না। তবে ৩৫ কেজির গ্যাস আগে ৩ হাজার ৭৫০ টাকা দাম ছিলো, এখন তা বেড়ে ৪ হাজার ৩০০ টাকা হয়েছে। এ দাম আরও বাড়তে পারে বলা হচ্ছে। এমন সঙ্কট সৃষ্টি করা কোনো সিস্টেম হতে পারে না।


একই অবস্থা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। নগরীর সাহেববাজার এলাকার মুখরোচক খাবার বিক্রেতা সেলিম রেজা বলেন, আমাদের দিনে দুইটা করে ১২ কেজির গ্যাসের সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। এখন দিনে একটাও মিলছে না। তাই বাধ্য হয়ে আমাদের মুখরোচক খাবার কম তৈরি করা হচ্ছে। সঙ্কট নিরসন না হলে ব্যবসা করা সম্ভব না। 


গ্যাস কিনতে আসা মোটর শ্রমিক শফিকুর রহমান বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হঠাৎ হঠাৎ বেড়ে গেলে আমাদের মতো শ্রমজীবী মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। গ্যাসের দাম বাড়ায় ঘরের খরচ সামলানো দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


 

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, ডিস্ট্রিবিউটররা চাহিদার এক তৃতীয়াংশ গ্যাসও সরবরাহ করতে পারছেন না। ফলে বেশি দামে কিনে বাধ্য হয়ে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন তারা।


নগরীর এলপিজি ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা চাহিদার এক তৃতীয়াংশ গ্যাসও পাচ্ছি না। ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে চাইলে তারা দিতে পারছে না। দু-একটি কোম্পানি থেকে অল্প পরিমাণ গ্যাস মিললেও কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে, তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে।


রাজশাহী এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন কচি বলেন, কোম্পানি থেকে গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় তারা বিক্রি করতে পারছেন না। রাজশাহীতে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে একটিও মজুদ নেই।


রাজশাহী বিভাগীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপপরিচালক ইব্রাহীম হোসেন বলেন, সিলিন্ডার গ্যাসের সংকট ও দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আমরা দেখছি। গত কয়েক দিন থেকেই সিলিন্ডারের দাম বাড়ছে। আমরা ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। দুই-এক দিনের মধ্যে সংকট কেটে যাবে বলে তারা জানিয়েছেন।#