সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

রুয়েটে ২১ কিলোমিটার হাফ ম্যারাথনে একমাত্র নারী ফিনিশার ডা. নুসরাত শারমিন চৈতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:৩৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:৩৫ অপরাহ্ন
রুয়েটে ২১ কিলোমিটার হাফ ম্যারাথনে একমাত্র নারী ফিনিশার ডা. নুসরাত শারমিন চৈতি

রুয়েটের তৃতীয় হাফ ম্যারাথন উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় একমাত্র নারী ফিনিশার হিসেবে শীর্ষস্থান অর্জন করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ডা. নুসরাত শারমিন চৈতি। ৪ শতাধিক অংশগ্রহণকারীরএই প্রতিযোগিতায় রুয়েট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শহরের বিভিন্ন কলেজ ও প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

ম্যারাথনের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে চ্যাম্পিয়ন ও বিজয়ীদের হাতে ট্রফি, পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এসময় চ্যাম্পিয়নের পুরস্কার হাতে নিয়ে ডা. নুসরাত শারমিন চৈতি তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন-“এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া আমার জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

প্রতিটি ধাপেই অনুভব করছিলাম শারীরিক শক্তি ও মানসিক ধৈর্যের পরীক্ষা। শুরু থেকে ফিনিশ পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত উত্তেজনা আর আনন্দে ভরপুর ছিল। এমন আয়োজনে অংশ নেওয়া কেবল দৌড়ই নয়, এটি আমাদের আত্মনির্ভরশীলতা, ধৈর্য্য এবং সুস্থ জীবনধারার প্রতি উৎসাহ বাড়ায়। আমি আনন্দিত যে নারীদেরও এই হাফ ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং আমরা আমাদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারছি। আশা করি, আরও শিক্ষার্থী ও তরুণ ভবিষ্যতে এই ধরনের আয়োজনে অংশ নেবে, যেন সুস্থতা ও খেলাধুলার সংস্কৃতি আরও প্রসারিত হয়।”

তিনি আরও জানান,“গত বছর ১লা সেপ্টেম্বর নেপালে ৫৫৫ ফিট উচ্চতা থেকে বাংগী জাম্প দিয়েছি। সেই অভিজ্ঞতাও আমাকে সাহসী হতে ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শিখিয়েছে। প্রতিটি অ্যাডভেঞ্চারই আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে দৃঢ় করেছে, আর আজকের বিজয় তারই ফল।”

ম্যারাথনের আয়োজন করেছে রুয়েটের অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব ‘অভিযাত্রিক’। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা চর্চায় উদ্বুদ্ধ করা এবং ক্যাম্পাসে খেলাধুলা ও সুস্থ জীবনধারার ধারাকে আরও প্রসারিত করা।

প্রতিযোগিতার সূচনা হয় ভোর সাড়ে ৬টায় রুয়েট সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে থেকে। শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের কিটস বিতরণ, দিকনির্দেশনা প্রদান এবং কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত করে দৌড় শুরু করানো হয়। অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ ও উদ্দীপনা দৃশ্যমান ছিল প্রতিটি মুহূর্তে।

ম্যারাথন তিনটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়—২১ কিলোমিটার হাফ ম্যারাথন, পুরুষ ও নারী ১০ কিলোমিটার ফান রান। এই তিনটির মধ্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ ছিল ২১ কিলোমিটার হাফ ম্যারাথন। এতে একমাত্র নারী ফিনিশার হিসেবে শীর্ষস্থান অর্জন করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ডা. নুসরাত শারমিন চৈতি। পুরুষ ফিনিশারে প্রথম স্থান অর্জন করেন মো. নাবিদ মোস্তফা জিসান, যিনি ১ ঘণ্টা ২৪ মিনিটে দৌড় সম্পন্ন করেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেন যথাক্রমে মহিবুর রহমান রিন্টু (১ ঘণ্টা ২৬ মিনিট) এবং তাইমুর খান তুর্য (১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট)।

নারী ১০ কিলোমিটার ফান রানে জান্নাত আরা মুক্তি ১ ঘণ্টায় ফিনিশ লাইন অতিক্রম করে প্রথম হন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন রানী টিকাদার (১ ঘণ্টা ১ মিনিট) ও আজিজা আয়েশা কাদেরী (১ ঘণ্টা ৯ মিনিট)। পুরুষদের ১০ কিলোমিটার ফান রানে প্রথম স্থান অধিকার করেন রহিমউদ্দিন, ২য় ও ৩য় স্থান যথাক্রমে মো. রায়হান হোসেন ও স্বাধীন হোসেন। প্রতিযোগিতার পুরো পরিবেশ ছিল আনন্দঘন ও উৎসাহপূর্ণ।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণকারীরা একে অপরকে উৎসাহিত করছিলেন। শেষ পর্যন্ত ম্যারাথনের সফল সমাপ্তি এবং ডা. নুসরাত শারমিন চৈতির চ্যাম্পিয়ন হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্যম সৃষ্টি করেছে। আয়োজকরা আশাবাদী, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে আরও বড় হয়ে রুয়েট ক্যাম্পাসে খেলাধুলার সংস্কৃতিকে আরও প্রসারিত করবে।