সাঁথিয়ায় রাত ৯টায় গ্যাস চলে যায়, ভোগান্তিতে গ্রাহক
রাত নয়টা বাজলেই হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পাবনার সাঁথিয়া পৌর এলাকার গ্রাহকেরা। সাঁথিয়া পৌর এলাকায় পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস সরবরাহ কোম্পানি লিমিটেডের(পিজিসিএল)আওতাধীন এই এলাকায় রাত ৯টার পর থেকে গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্নাসহ অন্যান্য কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস না থাকায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন শত শত পরিবার। প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত সরবরাহ বন্ধ থাকায় এলাকায় গ্রাহকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গ্যাস সুবিধাভোগী অনেক গ্রাহক জানান, প্রায় ৪থেকে ৫মাস হলো সাঁথিয়া পৌর এলাকায় রাত ৯টার পরই গ্যাস চলে যায়।জানা গেছে,একই সমস্যা সাঁথিয়ার পার্শ্ববর্তী বেড়া পৌর এলাকাতেও।সন্ধ্যার পর রান্নার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি হয়।অথচ ঠিক সেই সময়েই গ্যাস না থাকায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই বাধ্য হয়ে আগেভাগে রান্না করে রাখতে হচ্ছে।আবার কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে কাঠ,কয়লা বা এলপি গ্যাস ব্যবহার করছেন, যা ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ।এমনকি রান্না করতে না পারায় অনেকে হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।এছাড়া বর্তমানে চলছে শীতকাল,তীব্র শীতে অনেকেই পানি গরম করে প্রয়োজনীয় কাজও করতে পারছেন না।
পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস সরবরাহ কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল)বাঘাবাড়ি রিজিওনাল অফিস সূত্রে জানা যায়,বর্তমানে সাঁথিয়ায় ৬১৭জন আবাসিক এবং ৮জন বানিজ্যিক গ্রাহক এবং বেড়ায় ১হাজার ৩৫০জন আবাসিক ও ২জন বানিজ্যিক গ্রাহক গ্যাসের সুবিধা পাচ্ছেন।আবাসিক গ্রাহকরা একটি চুলা দিয়ে একাধিক পরিবারের রান্নার কাজ করে এবং অনেক ক্ষুদ্র মাঝারি ব্যবসায়ী চানাচুরসহ অন্যান্য ব্যবসায়িক পণ্য ভাজতে গ্যাস ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়া সাঁথিয়া এবং বেড়া পৌর এলাকায় প্রতি গ্রাহক প্রতিমাসে ৬০ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহারের স্থলে ৯০থেকে ১২০ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করছেন।ফলে গ্যাসের অপচয় হচ্ছে বলে সূত্রটি জানান।
সরেজমিন সাঁথিয়া পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিনের বেলায় গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। তবে রাত্রি হলেই হোটেল ব্যবসায়ী ও গৃহিনীদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।কেননা রাত নয়টার পর থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। এতে গৃহিনীরা তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় রান্নাবান্নাসহ কোনো কিছুই ঠিকমত করতে পারছেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ,পার্শ্ববর্তী সকল এলাকায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও সাঁথিয়া পৌর এলাকায় গ্যাস বন্ধ কেন রাখা হয় তা আমাদের বোধগম্য নয়। এই সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
শুধু গৃহিণীরাই নয়,এই গ্যাস সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন হোটেল ব্যবসায়ী,শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীরাও।অনেক শিক্ষার্থী সন্ধ্যার পর পড়াশোনার ফাঁকে নিজের খাবার নিজেই রান্না করে নিতেন। কিন্তু গ্যাস না থাকায় তারা হোটেল বা বাইরে খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে ছোট হোটেল,চায়ের দোকান ও খাবার বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলোতেও। সন্ধ্যার পর গ্যাস না থাকায় অনেক দোকান আগেই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।সন্ধ্যার পর ক্রেতা বেশি থাকে,অথচ সেই সময়েই গ্যাস বন্ধ।এতে প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
সাঁথিয়া বাজারের বাসিন্দা মাসুদা খাতুন বলেন, ‘সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভালোভাবে রান্না করা গেলেও সন্ধ্যার পর থেকে গ্যাসের চাপ কম থাকে।রাত নয়টা বাজলেই চুলা নিভে যায়।দুঃখের কথা কি বলবো! একদিন রাতে চুলায় ভাত এবং তরকারি রান্নার জন্য চুলায় বসানোর পরই গ্যাস চলে গেল!
আরেক ভুক্তভোগী গৃহিণী রাহেলা খাতুন বলেন, ‘গ্যাসের বিল ঠিকই দিচ্ছি,কিন্তু গ্যাস পাচ্ছি না। আগে এমন সমস্যা ছিল না। এখন প্রায় প্রতিদিন একই অবস্থা।’
পৌর এলাকার দৌলতপুর মহল্লার বাসিন্দা একটি এনজিওর ব্যবস্থাপক বাবুল হোসেন বলেন, ‘অফিস থেকে ফিরে বাসায় এসে দেখি গ্যাস নেই। রাত নয়টায় গ্যাস চলে যাওয়ায় রান্না করতে পারেনি। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার আনতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে।’
গ্যাসের গ্রাহক শালঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম রিপন বলেন,অবিলম্বে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক এবং রাতের বেলায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।পাশাপাশি সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস সরবরাহ কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল)বাঘাবাড়ি রিজিওনাল অফিসের ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, বর্তমানে দেশে গ্যাস সংকট রয়েছে। গ্যাসের অপচয় রোধে প্রায় তিন মাস রাতে গ্যাস বন্ধ রাখা হচ্ছে। অনেক গ্রাহক একটি চুলায় একাধিক পরিবারের রান্না করা ও ক্ষুদ্র মাঝারি ব্যবসায়ী চানাচুরসহ অন্যান্য ব্যবসায়িক পণ্য ভাজাভাজির কারণেও অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে।গ্রাহকদের অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার বিষয়ে সচেতন করার জন্য ইতিমধ্যেই মাইকিং করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিজিসিএল এর এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার রোধে গ্রাহকদের প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করার ব্যবস্থা করা হবে।