দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতি সম্মান জানিয়ে পবায় স্বাস্থ্য বিভাগের ১৭ জনকে বিদায় সংবর্ধনা
দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও নিষ্ঠার প্রতি সম্মান জানিয়ে রাজশাহীর পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৭ জন বিদায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. হাবিবুর রহমান।
তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে বিদায় একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও একজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিদায় মানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি। মাঠপর্যায়ে কাজ করা স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের সবচেয়ে কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ান। তাঁদের শ্রম, সততা ও মানবিক আচরণই একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি। বিদায়ী কর্মকর্তাদের কর্মনিষ্ঠা ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহা. আসাদুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়ন ও সেবার ধারাবাহিকতায় বিদায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের কারণেই এই প্রতিষ্ঠান মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। তিনি বিদায়ীদের সুস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ জীবনের মঙ্গল কামনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রাজিউল করিম বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগে কাজ করা মানেই একটি সেবাধর্মী দায়িত্ব পালন করা। দীর্ঘ সময় ধরে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারীদের সম্মান জানানো একটি সুন্দর সাংগঠনিক সংস্কৃতির পরিচয়। এ ধরনের সংবর্ধনা নতুন কর্মীদেরও দায়িত্বশীল হতে অনুপ্রাণিত করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত আমান আজিজ বলেন, বিদায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মান জানানো শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি একটি প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ। কর্মজীবনের শেষে এমন স্বীকৃতি একজন কর্মীর জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকে।
বিদায়ীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. নূর তাজ হোসেন। তিনি বলেন, ১৯৮৮ সালে কর্মজীবন শুরু করে দীর্ঘ ৩৭ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জীবনের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। সহকর্মীদের সহযোগিতা ও মানুষের ভালোবাসাই ছিল কাজের প্রধান প্রেরণা।
নার্সিং সুপারভাইজার তানজিলা খাতুন বলেন, এই উপজেলায় তিনি ৩৭ বছর ৬ মাস চাকরি করেছেন, যার মধ্যে ৩১ বছর সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রোগীদের সেবাই ছিল তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য। বিদায়ের মুহূর্তে সহকর্মীদের ভালোবাসা তাঁকে আপ্লুত করেছে বলে তিনি জানান।
এ ছাড়া বিদায়ী অফিস সহকারী মিজানুর রহমান, স্বাস্থ্য পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম ও উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী নজরুল ইসলাম তাঁদের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিদায়ী ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ছিলেন—উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাবেয়া বসরী, নার্সিং সুপারভাইজার তানজিলা খাতুন, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শাকিলা শাহ, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. নূর তাজ হোসেন ও শরিফুল ইসলাম, স্যানেটারি ইন্সপেক্টর জালাল উদ্দিন আহমেদ, ক্যাশিয়ার আখতারুল ইসলাম, অফিস সহকারী মিজানুর রহমান, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক খালেকুজ্জামান, মাইনুল ইসলাম ও আখতার রহমান, স্বাস্থ্য সহকারী নজরুল ইসলাম, সুফিয়া পারভিন, আঞ্জুমান আরা বেগম ও আবুল খায়ের, অফিস সহকারী শ্রী সন্তোষ কুমার দাস এবং মালী আশারুল হক।
অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে বার্ষিক বনভোজনে অংশগ্রহণকারীদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।