সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

চারঘাটে বন্ধ হচ্ছে না ভেজাল খেজুর গুড় তৈরি

চারঘাট প্রতিনিধি ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:২৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
চারঘাট প্রতিনিধি ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:২৪ অপরাহ্ন
চারঘাটে বন্ধ হচ্ছে না ভেজাল খেজুর গুড় তৈরি

রাজশাহীর চারঘাটে বন্ধ হচ্ছে না কাপড়ে ব্যবহৃত রং, আটা, চিনি ও এক ধরণের কেমিক্যাল দিয়ে খেজুর গুড় তৈরি।এসবের মিশ্রণ ঘটিয়ে শীত মৌসুমের ব্যাপক চাহিদা সমপন্ন খেজুর গুড় তৈরিতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেই কার্যকর কোন ব্যবস্থা।


ফলে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস,বছরের পর বছর ধরে চারঘাটসহ আশেপাশের উপজেলায় দেদারছে তৈরি হচ্ছে ভেজাল খেজুর গুড়। তবে প্রশাসনের দাবি সংবাদ পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জরিমানা করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের দাবির সঙ্গে দ্বিমত করে স্থানীয়রা বলছেন ঢাক ঢোল পিটিয়ে লোক দেখানো অভিযানে বন্ধ হচ্ছে না এসব অবৈধ কর্মকান্ড।


সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীত মৌসুম শুরু থেকেই ব্যাপক চাহিদা খেজুর গুড়ের। আর এই চাহিদাকে পুজি করে এক শ্রেণির গুড় প্রস্তুতকারীরা কয়েক কেজি খেজুর রসের সঙ্গে চিনি, আটা, রং ও এক ধরণের কেমিক্যালের মিশ্রণ ঘটিয়ে তৈরি করছেন ভেজাল খেজুর গুড়।


গুড়ের চেয়ে চিনির দাম তুলনামুলক কম হওয়ায় এ বছর ব্যাপকভাবে এমন অবৈধ কর্মকান্ড পরিলক্ষিত হচ্ছে। আর এসব ভেজাল খেজুর তৈরিতে ও বিক্রিতে নেই কোন বাধাবিপত্তি। গুড়ে ভেজাল জেনেও এক শ্রেণির অনলাইন ব্যবসায়ীরা কোনকিছুর তোয়াক্কা না করে এক নম্বর খাটি খেজুর গুড় বলে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছেন ভেজাল খেজুর গুড়। এতে চরমভাবে প্রতারিত হচ্ছেন দেশের বেশীরভাগ গুড় গ্রাহকরা।


রাওথা এলাকার খেজুর গুড় প্রস্তুতকারী সেতাব আলী জানান, বর্তমানে খেজুর রস জ্বালদিয়ে শক্ত খেজুর গুড় তৈরি করা কঠিন। তাই অনেকেই অনিচ্ছাকৃত ভাবে চিনি দিচ্ছে। আবার অনেকে খেজুর গুড়ের চাহিদাকে পুজি করে অল্প দামে চিনি কিনে দেদারছে মিশাচ্ছে চিনি। বর্তমান বাজারে ১ কেজি চিনির দাম ১০০ টাকা। আর খেজুর গুড় ১ কেজির দাম ১৭০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। ফলে অধিক লাভের জন্যও অনেকে মিশাচ্ছেন চিনি। অপরদিকে প্রকৃত খেজুর গুড়ের রং আনতে ব্যবহার করা হচ্ছে কাপড়ের রং, আটা ও এক ধরণের কেমিক্যাল।

  

নিমপাড়া ইউনিয়নের প্রবীন রাজনীতিবিদ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু সাঈদ হিরু জানান, আগে খেজুর গুড়ের যে আলদা ঘ্রানছিল, এখন আর সেটা নেই। চিনি এখন সকল বাড়ীর খেজুর গুড়েই মিশাচ্ছে। তবে রং, আটা ও কেমিক্যাল মিশ্রণ ঠেকানো যাদের দায়িত্ব তারা থাকেন সব সময় উদাসিন। দুএকটি অভিযান চোখে পড়লেও কাজের কাজ কিছুই হয় না। ফলে প্রশাসনের অভিযান শুধুই নামেই স্বীমাবদ্ধ।


উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও ম্যাজিষ্ট্রেট মিজানুর রহমান বলেন, আমিসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস এর নেতৃত্বে বেশকিছু এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছি। ভেজাল গুড় প্রস্তুতকারীদের ভ্রাম্যমানে জরিমান্ াকরা হয়েছে। এ অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে বলে জানান তিনি।