সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
পবায় উঠান বৈঠকে পরিবর্তনের অঙ্গীকার

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রতিশ্রুতি দিলেন পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৪ অপরাহ্ন
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রতিশ্রুতি দিলেন পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন রাজশাহীর পবা উপজেলার সাধারণ ভোটার। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার কাছে এ প্রতিশ্রুতি দেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের পোড়াপুকুর গ্রামের একটি আমবাগানে এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।


উঠান বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও মতামত বিনিময়ের মধ্য দিয়ে গণভোটকে ঘিরে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশার চিত্র ফুটে ওঠে। বক্তারা বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ, সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিতে চান।


উঠান বৈঠকে প্রথমে বক্তব্য দেন রাজশাহীর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার। তিনি বলেন, গণভোট ও নির্বাচন গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। সচেতনভাবে ভোট প্রদান করলে রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের মতামতের যথাযথ প্রতিফলন ঘটে। তিনি নারী ও নতুন ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করেন।


এরপর বক্তব্য দেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল জলিল। তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের পথ সুগম হয়। জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণে যে সিদ্ধান্ত আসবে, তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, গণভোট শুধু একটি ভোট নয়, এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা। তিনি বলেন, “আপনি যদি নারীর অধিকার চান, সংসদে যদি আপনার অধিকার নিশ্চিত করতে চান, তাহলে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেবেন। যদি ন্যায্য ও বৈষম্যহীন সরকার চান, সুন্দর দেশ চান, নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা চান—সংস্কার, স্বচ্ছতা, ন্যায় ও জবাবদিহিতার জন্য ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেবেন। আর সংসদ সদস্য নির্বাচন করতে যাকে খুশি তাকে ভোট দেবেন।”


বক্তব্য শেষে তিনি উপস্থিত নারী-পুরুষদের কাছ থেকে সরাসরি মতামত শোনেন। কালুমেড় গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের শহীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে যে ‘হ্যাঁ’ ভোট আসছে, আমরা সবাই সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব। আমার ভাইয়ের খুনিদের রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করে দেবে—তা হতে পারে না। তাই আমরা সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব।”


একই গ্রামের বেসরকারি চাকরিজীবী হাসমত আলী বলেন, “হ্যাঁ ভোট দিলে দেশে কেউ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না, কেউ স্বৈরাচার হতে পারবে না। তাই আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব। দেশ পরিচালনায় সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধীদলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব।”পোড়াপুকুর গ্রামের মনোয়ারা বেগম ও আলেকজান বেগমও ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের এ প্রতিশ্রুতির জন্য তথ্য সচিব কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার আগেই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।


উঠান বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ, উপসচিব তাসলিমা নূর হোসেন, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) সৈয়দ এ মোমেন, রাজশাহী জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক তাজকিয়া আকবারীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


এর আগে সকালে তথ্য সচিব রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ ও রাজশাহী কলেজে নারী ভোটার ও নতুন ভোটারদের জন্য আয়োজিত ‘গণভোট ও নির্বাচন–২০২৬ প্রচারণা’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সানোয়ার জাহান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ। রাজশাহী কলেজের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ ইব্রাহিম আলী।