নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের আহ্বান
নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিকার ও প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে এক অ্যাডভোকেসি ডায়ালগে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই ডায়ালগে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষা ও সমাজসেবা বিভাগ, নারী উন্নয়ন সংস্থা, গণমাধ্যম এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ডায়ালগটির আয়োজন করে ব্র্যাক-এর জেন্ডার জাস্টিস এন্ড ডাইভার্সিটি প্রোগ্রাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত আমান আজিজ। শুরুতেই ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক মো. মহাসিন আলীর সঞ্চালনায় নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিকার ও প্রতিরোধ বিষয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের রিজিওনাল ম্যানেজার অপূর্ব সাহা।
উপস্থাপনায় তিনি বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা একটি বহুমাত্রিক সামাজিক সমস্যা, যা পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা কারণের সঙ্গে জড়িত। আইন থাকলেও সচেতনতার অভাব, সামাজিক নীরবতা ও ভুক্তভোগীদের ভয়-লজ্জার কারণে অনেক ঘটনা প্রকাশ পায় না। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য।
উন্মুক্ত আলোচনায় এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুমা মোস্তারী বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ ও আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জানান, অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক চাপ ও ভয় থেকে অভিযোগ করতে সাহস পান না। এ ক্ষেত্রে পরিবার ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোতাহার হোসেন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে নৈতিকতা, মানবিকতা ও লিঙ্গসমতার চর্চা গড়ে তুলতে হবে। পাঠ্যক্রম ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে সহিংসতার প্রবণতা কমে আসবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন খান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার ও কন্যাশিশুদের চিহ্নিত করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুন বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর ক্ষমতায়ন ছাড়া সহিংসতা প্রতিরোধ সম্ভব নয়। নারীদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীল করে তুললে তারা সহিংসতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবে।
উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নাজমুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যম সচেতনতা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। বাঁচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা সরকার বিজলী বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও নাটক-গানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত আমান আজিজ বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার অন্যতম কারণ বাল্যবিবাহ। এ ক্ষেত্রে পিতা-মাতাকে সঠিক তথ্য ও মূল্যবোধ সন্তানদের দিতে হবে। তিনি বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিকার ও প্রতিরোধ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং সামাজিক ও পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে অভিভাবক সমাবেশ ও উঠান-বৈঠককে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে।
ডায়ালগ শেষে অংশগ্রহণকারীরা নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।#