সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

পবায় সামরিক কর্মকর্তার ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখলের চেষ্টা, তালা ভেঙে দুর্বৃত্তদের নতুন তালা

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৩১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৩১ অপরাহ্ন
পবায় সামরিক কর্মকর্তার ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখলের চেষ্টা, তালা ভেঙে দুর্বৃত্তদের নতুন তালা

রাজশাহীর পবা উপজেলায় এক সামরিক কর্মকর্তার ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার কাটাখালী পৌরসভার মাসকাটাদীঘি এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত জমির মূল ফটকের তালা ভেঙে নিজেদের তালা ঝুলিয়ে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে কুদ্দুস চেয়ারম্যানের ইটভাটার পাশে এক সামরিক কর্মকর্তার ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে এ ঘটনা ঘটে। জমিটির খতিয়ান নম্বর- ২২৭৩ ও দাগ নম্বর- ৩০৭। আইনগতভাবে মালিকানা দাবি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়ে দুর্বৃত্তরা জবরদখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ জমির মালিকপক্ষের।


জমির মালিক শাহ মো. আর রাহবারুল ইসলাম জানান, তিনি পেশায় একজন সামরিক কর্মকর্তা এবং চাকরির সুবাদে অধিকাংশ সময় নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান করেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এর আগেও তাঁকে ও জমির রক্ষণাবেক্ষণকারীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। পবিত্র শবে মেরাজের রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কম থাকবে—এমন ধারণা থেকেই দুর্বৃত্তরা তালা ভেঙে জবরদখলের চেষ্টা করে বলে তিনি মনে করেন।


ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি যাচাই করে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এ বিষয়ে শাহ মো. আর রাহবারুল ইসলাম আরও জানান, রাজশাহী জেলা অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ছয়জনকে আসামি করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জমির কেয়ারটেকার হাবিব শেখ বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন—মৃত হারুন মোল্লার ছেলে বাবর মোল্লা, কামাল মোল্লা, পিয়ারুল মোল্লা, খাইরুল মোল্লা, বাবুর ছেলে রক্তিম ও আশিক।


স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমির মালিকের প্রতিবেশী হিসেবে পরিচিত এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জমি দখলের চেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। 


জমির মালিকপক্ষের ধারণা, অবৈধভাবে জায়গাটি দখল করে সেখানে ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবনের সুযোগ তৈরি করার উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় এবং বিভিন্ন অন্যায় দাবি প্রত্যাখ্যান করায় জমির রক্ষণাবেক্ষণকারীদের হত্যার হুমকি, গুমের ভয় দেখানো ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।


এ বিষয়ে কাটাখালী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সেলিম বলেন,“এই বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এটি জমি সংক্রান্ত বিরোধ। উভয় পক্ষকে জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ থানায় উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”