ভারত সরকারের উপহারের অ্যাম্বুলেন্স এখন ‘ভোটের গাড়ি’
চার বছর আগে দেয়া ভারত সরকারের উপহারের আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স এখন ‘ভোটের গাড়ি’ । প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক লাইফ সাপোর্ট (আইসিইউ) অ্যাম্বুলেন্সটি নাটোর পৌরবাসীর দ্রুত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত সরকার উপহার হিসেবে দিয়েছিল মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচানো জন্য।
নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বাহনটি গণভোটের প্রচারণায় এখন ব্যবহৃত হচ্ছে ‘ভোটের গাড়ি’ হিসেবে। নাটোর পৌর কর্তৃপক্ষ সেটিকে ‘ভোটের গাড়িতে’ রূপান্তর করায় পৌরবাসী ও সচেতন মহলের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ চলছে না না রকম আলোচনা সমালোচনাও ।
সরেজমিনে দেখা যায়, অত্যাধুনিক এই অ্যাম্বুলেন্সটির গায়ে নির্বাচনী স্টিকার সাঁটানো হয়েছে। উপরের স্থাপন করা হয়েছে সাউন্ড সিস্টেম। শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে এটি এখন গণভোট প্রচারণা করে বেড়াচ্ছে। অথচ, গত চার বছর ধরে দক্ষ জনবল ও অতিরিক্ত ভাড়ার অজুহাতে এই বাহনটি সাধারণ মানুষের কোনো কাজেই আসেনি।
জানা যায়, ২০২২ সালের শুরুর দিকে ভারত সরকার বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে নাটোর পৌরসভা, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল ও সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে মোট তিনটি অত্যাধুনিক আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয়। ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি নাটোর পৌরসভা প্রাঙ্গণে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাটি নাটোর পৌর মেয়রের কাছে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি হস্তান্তর করেন।
শুরুতে এটি নিয়ে পৌরবাসীর মধ্যে ব্যাপক আশা তৈরি হলেও, গত চার বছরে খুব কম মানুষই এর সেবা পেয়েছেন। পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, এই বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ টেকনিশিয়ান ও জনবল নেই। পাশাপাশি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সের তুলনায় এর ভাড়াও নির্ধারণ করা হয়েছিল বেশি।
ফলে গ্যারেজেই অলস পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছিল কোটি টাকার এই সম্পদ। দক্ষ জনবল নিয়োগ দিয়ে জনগণের সেবায় ব্যবহারের পরিবর্তে অ্যাম্বুলেন্সটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণায়। জীবন রক্ষাকারী একটি বাহনকে এভাবে নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।
শহরের মল্লিকহাটি এলাকার বাসিন্দা টিপু সুলতান বলেন, ভারত সরকার এটি দিয়েছে মানবতার সেবার জন্য,ভোটের প্রচারণার জন্য না। এটি কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী কাজ।
শহরের কানাইখালী এলাকার ব্যবসায়ী শামসুল আলম বলেন, অ্যাম্বুলেন্স মানেই জীবন বাঁচানোর বাহন। জনবল নিয়োগ দিয়ে এটি মানুষের সেবায় ব্যবহার করা যেতো। এটা যদি ভোটের কাজে ব্যবহার হয়, তাহলে অসুস্থ মানুষ যাবে কোথায়?
নাটোর পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বলেন, সকালে পৌরসভায় এসে দেখি অ্যাম্বুলেন্সে হ্যাঁ-না ভোটের স্টিকার লাগানো। তবে অ্যাম্বুলেন্স হঠাৎ ভোটের গাড়িতে রূপান্তরের বিষয়ে আগে থেকে পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোর পৌরসভার পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এস.এইচ.এম. মাগ্ফুরুল হাসান আব্বাসী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। কথা বলে জানাতে পারব।