মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

নওগাঁয় আন্ত:জেলা ডাকাত চক্রের ছয়জন সদস্য আটক

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:১৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:১৩ অপরাহ্ন
নওগাঁয় আন্ত:জেলা ডাকাত চক্রের ছয়জন সদস্য আটক

নওগাঁয় ডাকাতি ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডাকাত সদস্যসহ অন্যদের আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশ বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আন্ত:জেলা ডাকাত দলের ৬ জন সদস্য,  ট্রাকের  ড্রাইভার এবং হেল্পারসহ  ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, ২২ জানৃয়ারি দিনাজপুর জেলা বদরগঞ্জ হতে ট্রাক ড্রাইভার মারুফ ও তার হেলপার শামীম একটি ট্রাকে (ঢাকা মেট্রো-ট, ১৬-০১৩৮) করে ২৫০(দুইশত পঞ্চাশ) বস্তায় ৫০০(পাঁচশত)মন ধান লোড করে নওগাঁ জেলার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। উক্ত ট্রাকটি ২৩ জানুয়ারি রাত অনুমান ১.৪৫ ঘটিকার সময় নওগাঁ জেলার সদর থানার শেষ সীমানা কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের মধ্যে ফাঁকা রাস্তার উপর পৌছাইলে পিছন দিক থেকে একটি ডাকাত দলের ট্রাক ওভারকেটিং করে সামনে এসে ধান বোঝাইকৃত ট্রাকটির সামনে ব্যারিকেড দেয় এবং অজ্ঞাতনামা ডাকাতরা ধান বোঝাইকৃত ট্রাকের গ্লাস ভেঙ্গে ফেলে এবং ট্রাকের ড্রাইভার মারুফ ও হেলপার শামীমকে মারধোর করে রশি দিয়ে হাত-পা বেধে অজ্ঞাতনামা ডাকাত দল ধান বোঝাইকৃত ট্রাকটি ধান’সহ ডাকাতি করে নিয়ে যায়। এই সংক্রান্তে নওগাঁ সদর মডেল থানার মামলা নং-৩৯, তারিখ-২৩/০১/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড রুজু হয়।

 ঘটনাটি আমি জানার পর, তাৎক্ষণিক বদলগাছি থানা সদর থানা পুলিশ,  সদর সার্কেলকে সেখানে পাঠানো হয়। একই সাথে মামলার গুরুত্ব  বিবেচনা করে জেলা গোয়েন্দা শাখাকে মামলা তদন্ত , এবং  বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে ডাকাত দলকে সনাক্ত করে ডাকাতদের গ্রেফতার ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারের জন্য নির্দেশ প্রদান করি। আমার নির্দেশনা পেয়ে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা, নওগাঁ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। এক পর্যায়ে তথ্য পাওয়া যায় যে, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানাধীন মোকামতলা তদন্ত কেন্দ্রে একটি ট্রাক ও একজন ব্যক্তিকে সন্দেহজনক ভাবে আটক রেখেছে। তথ্যটি জানার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা, নওগাঁ এর একটি টীম দ্রুত মোকামতলা তদন্ত কেন্দ্রে যায়। সেখানে গিয়ে আটককৃত ব্যক্তি মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩০),

পিতা-মৃত রফিকুল ব্যাপারী, সাং-শিবপুর, থানা-গোবিন্দগঞ্জ, জেলা-গাইবান্ধাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে আটককৃত ব্যক্তি মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ সহ তার সঙ্গীয় অন্যান্য ডাকাত সহ মিলে ডাকাতি কার্যক্রমটি সংঘটিত করেছে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর আটককৃত ডাকাত মোঃ আরিফুল ইসলাম কে জেলা গোয়েন্দা শাখা, নওগাঁ হেফাজতে নেয়। হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডাকাত আরিফকে নিয়ে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ ও সাদুল্যাপুর থানা এলাকায় অভিযান করে ডাকাত গোলাপ (২৪), পিতা-মৃত হাসেন আলী, সাং-পলুপাড়া, থানা-গোবিন্দগঞ্জ, ও লাভলু (২৮),

পিতা-মোঃ ওয়াহেদ আলী, সাং-বলিদহ, থানা-সাদ্ল্যুাপুর, উভয় জেলা-গাইবান্ধা দ্বয়কে গ্রেফতার করে। ডাকাত গোলাপ ও লাভলু কে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় যে, তাদের ডাকাত সর্দার মোঃ সামিউল ইসলাম (৩০) গাজিপুর জেলার কালিয়াকৈর এলাকায় আছে। গাইবান্ধা জেলায় অভিযান শেষ করে গাইবান্ধা থেকে জেলা গোয়েন্দা শাখা, নওগাঁ গাজিপুর অভিযানে চলে যায়। আসামীদের দেওয়া তথ্য যাচাই বাচাই করে তথ্য প্রযুক্তি মাধ্যমে বিচার বিশ্লেষন করে গাজিপুর জেলার কালিয়াকৈর এলাকায় ডাকাত সর্দার মোঃ সামিউল ইসলাম(৩০),

পিতা-চিনু মিয়া, সাং-দিঘীরপাড় সরকার বাড়ি, থানা-কালিয়াকৈর, জেলা-গাজিপুর এর ভাড়া বাসায় গ্রেফতারের জন্য অভিযান করা হয়। কিন্তু ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত সামিউল পালিয়ে যায়। তবে তার ভাড়া করা বাসা থেকে ডাকাতি হওয়া বোঝাইকৃত ট্রাকটির কাগজপত্র পাওয়া যায়। এরপর ঢাকা জেলার আশুলিয়া, সাভার, কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে আরও তিনজন ডাকাত ১। মোঃ রাকিব হোসেন শরীফ(২৭), পিতা-মৃত- দেলোয়ার হোসেন  শরীফ,  মাতা -সেলিনা বেগম,  সাং-চরকা কাটা চানপুর, থানা- মেহেন্দিগঞ্জ,  জেলা -বরিশাল, ২। মোঃ রফিকুল ইসলাম অপু(৩১), পিং-মৃত-আঃ সাত্তার, মাতা-ছমেলা বেগম, সাং-বড় সাতাইল বাতাইল, থানা- গোবিন্দগঞ্জ,

  জেলা-গাইবান্ধা, ৩। মোঃ সাজিদুল ইসলাম সবুজ(২৩), পিং-মোঃ রাজা মিয়া, মাতা-শাহিনুর বেগম, থানা গোবিন্দগঞ্জ, জেলা গাইবান্ধা দের কে গ্রেফতার করা হয়। টানা ৪৮ ঘন্টা অভিযানে এই ঘটনা সংক্রান্তে সর্বমোট ০৬(ছয়) জন ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি ডাকাতরা যে ট্রাক নিয়ে ডাকাতি করার জন্য ব্যবহার করেছিল সেটাও ডিবি পুলিশ জব্দ করেছে। অপর ডাকাতদের গ্রেফতার এবং ডাকাতির মালামাল উদ্ধার  অভিযান অব্যাহত আছে।  

উদ্ধারকৃত আলামতের বর্ণনা

০১। ডাকাতদের নিকট হতে তাদের ব্যবহৃত ০৪টি বাটন ও ৩ টি স্মার্ট ফোন সহ মোট ০৭ টি মোবাইল ফোন

০২। ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত ডাকাতদের ট্রাক (বগুড়া-ঢ, ১১-১৯৮১) ০১ টি।

নওগাঁ কে অপরাধ মুক্ত করতে আগামীতেও জেলা পুলিশের এমন তৎপরতা চলমান থাকবে বলেও জানান পুলিশ সুপার।  সম্মেলনে জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।