তেল আবিবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২
ইসরায়েলের বাণিজ্য নগরী তেল আবিবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
বুধবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন জানায়, নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
লারিজানি সোমবার দিবাগত রাতে তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে ইরান নিশ্চিত করেছে। লারিজানির সঙ্গে তার ছেলে মোর্তেজা, ডেপুটি আলিরেজা বায়াত ও একদল রক্ষীও নিহত হন।
ইসরায়েল বলেছে, ইরান বারবার ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহার করছে, সেগুলো মাঝ আকাশে ছোট ছোট বিস্ফোরকে বিভক্ত হয়ে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, যা প্রতিরোধ করা কঠিন।
রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ঘনবসতিপূর্ণ তেল আবিবে এ হামলায় দুইজন নিহত হয়। এতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানি হামলায় ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা ম্যাগেন দাভিদ আদোম জানিয়েছে, তেল আবিবের শহরতলী রামাত গানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণে দুইজন গুরুতর আহত হওয়ার পর মারা যান। নিহতদের সত্তরোর্ধ এক দম্পতি বলে শনাক্ত করেছে হিব্রু গণমাধ্যম। তারা বোম্ব শেল্টারে যাওয়ার সময় আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তেল আবিবের একটি এলাকাকে লক্ষ্যস্থল করে খোররামশাহর-৪ ও কদর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নিতে এ হামলা চালানো হয়।
ইরানের আধা-স্বায়ত্তাশাসিত বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসরায়েলের যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যস্থল করা হয়েছে সেগুলো হল, হাদেরা শহরে কাছে ওরত রাবিন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, আশকেলনের রুটেনবার্গ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, উত্তরাঞ্চলের অধিকৃত ইয়কনেয়ামের নিকটবর্তী হাগিত কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট, আশদোদ শহরের এশকোল হাইব্রিড পাওয়ার প্ল্যান্ট ও কিরিয়াত মালাখি শহরের নিকটবর্তী হারুভিত (জাফিত) পাওয়ার প্ল্যান্ট।
এই পাঁচটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইসরায়েলের ৫০ শতাংশেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় বলে দাবি করেছে ইরান। তেহরানের শোহাদা স্কয়ার এলাকার বিদ্যুৎ স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি উপকূল বরাবর বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে, কারণ এসব এলাকায় মোতায়েন করা ইরানের জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি হয়েছিল।
এ দিন ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল স্থাপনায় ফের হামলা চালানোর পর তেলের মূল্য আরও প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এই নিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গত ১৮ দিনে তেলের মূল্য প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেল।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ