সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল বাড়ালেন ট্রাম্প

সোনার দেশ ডেস্ক ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল বাড়ালেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

হাজারো মানুষের প্রাণহানি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিকে টালমাটাল করে দেওয়া যুদ্ধের অবসানে শান্তি আলোচনা চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি এ ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের অনুরোধে তিনি সম্মতি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ইরানের নেতা ও প্রতিনিধিরা ‘একটি সমন্বিত প্রস্তাব নিয়ে আসার আগ পর্যন্ত’ দেশটিতে হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধে তিনি রাজি হয়েছেন।

দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং আলোচনা কোনো একটি চূড়ান্ত পরিণতিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত’ এটা কার্যকর থাকবে।

ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোয় বোমা হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের বারবার দেওয়া হুমকি থেকে পিছু হটার এটিই সর্বশেষ উদাহরণ।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ অনেকেই বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে এ ধরনের হামলা নিষিদ্ধ।

রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে ইরান, ইসরায়েল বা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইরান বা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দুই মাসের যুদ্ধের মিত্র ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকাল বাড়ানোর ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে সম্মত হয়েছে কি না, তাও পরিষ্কার হয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন ট্রাম্প। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তিনি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরান সরকার গুরুতরভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে (যা মোটেই অপ্রত্যাশিত নয়), এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এবং পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অনুরোধে আমরা ইরান দেশটির ওপর হামলা স্থগিত রাখতে বলেছি যতক্ষণ না তাদের নেতা ও প্রতিনিধিরা একটি সমন্বিত প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারেন।

“তাই আমি আমাদের সামরিক বাহিনীকে অবরোধ অব্যাহত রাখতে ও অন্য সব দিক থেকে প্রস্তুত থাকার ও সক্ষমতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছি আর তাদের প্রস্তাব জমা দেওয়া ও আলোচনা কোনো না কোনোভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বাড়িয়েছি।”

মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ (যার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তার ছেলে) দেশটির বেশ কয়েকজন নেতার নিহত হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প এসব কথা বলেছেন।

ট্রাম্প সমুদ্র পথে ইরানের বাণিজ্য বন্ধ করতে বন্দর ও উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন। ইরান অবরোধকে ‘যুদ্ধের শামিল’ বলে অভিহিত করে আসছে।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় আলোচকদের পাঠানো হবে কি না, তা নিয়ে চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব চলার মধ্যে মার্কিন এ অবরোধ একটি বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

অস্থায়ী এ যুদ্ধবিরতি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নিজের অনীহার কথা প্রকাশের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই তা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প। এর আগে তিনি বলেছিলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলার জন্য ‘উন্মুখ হয়ে আছে’।

সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত একটি ‘দারুণ চুক্তি’ হতে যাচ্ছে।

বুধবার ভোর পর্যন্ত ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তেহরান থেকে আসা প্রাথমিক কিছু প্রতিক্রিয়ায় ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, ট্রাম্পের মন্তব্যগুলোকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের অধিভুক্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর জন্য বলেনি আর তেহরান ফের মার্কিন নৌ-অবরোধ শক্তি দিয়ে ভাঙার হুমকি দিয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও আলোচক দলের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ বাকের কলিবফ বলেছেন, ট্রাম্পের ঘোষণার তেমন কোনো ‘গুরুত্ব নেই’ আর এটি একটি ‘কৌশল হতে পারে’।

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ