নাটোরে সেই বাদীর বিরুদ্ধে এবার মামলা করার নির্দেশ
নাটোরের গুরুদাসপুরে ৭ বছর বয়সী এক শিশুর বয়স ২১ বছর দেখিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করার অপরাধে মামলার সেই বাদীর বিরুদ্ধে এবার মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৫ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এ নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সাত দিনের মধ্যে ওই শিশুকে অব্যাহতি দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বখতিয়ার হোসেনকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আদালত মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা শাহ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গুরুদাসপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রাবণ সরকারকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। এই ঘটনায় ১০ এপ্রিল শ্রাবণের বাবা শাহানুর রহমান বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলার তিন নম্বর আসামি করা হয় ধারাবাড়িষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র হোসেন আলীকে। তার জন্মসনদ অনুযায়ী বয়স মাত্র সাত বছর।
ওই মামলায় গত মাসের ২৬ এপ্রিল (রোববার) ওই শিশুটি তার বাবার সঙ্গে শিশু আদালতে হাজির হয়ে গুরুদাসপুর থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিনের আবেদন করেন।
শিশুটি উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও জন্মনিবন্ধন অনুসারে ঘটনার তারিখে তার বয়স প্রায় সাত বছর।
এ বিষয়টি আদালতের বিচারক এর নজরে আসলে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তার জামিন মঞ্জুর করেন। একই সাথে মামলার বাদী শাহানুর রহমানকে আদালতে মামলার ধার্য্য তারিখে হাজির হতে নোটিশ জারির নির্দেশ দেয়া হয়।
একই সঙ্গে শিশুটির প্রকৃত বয়স কেন উল্লেখ করা হয়নি, এ ব্যাপারে মামলার বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে কৈফিয়ত তলব করেন। মঙ্গলবার (৫ মে) সশরীর আদালতে হাজির হয়ে তাঁকে কৈফিয়ত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ দিন তারা আদালতে হাজির হলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা করার অপরাধে বাদীর বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন একই সঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বেশ কিছু দিক নির্দেশনাও দেন আদালত।
শিশু হোসেন আলীর বাবা শাহজাহান আলী বলেন, তার অবুঝ শিশুকে নিয়ে আর আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবেনা। তার সন্তানের বিরুদ্ধে মামলাটি মিথ্যাআদালতে প্রমান হয়েছে। মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে, আমি তার বিচার চাই।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ বখতিয়ার হোসেন বলেন, প্রতিপক্ষ নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রাবণ সরকারকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। এতে সে মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হওয়ায় মামলাটি আমলে নিয়ে থানায় রেকর্ড করা হয়। এর পর থেকে আমামিরা পলাকত থাকায় এবং এ ঘটনায় প্রকৃত আসামি হোসেন এর বড় ভাই হাসান হবে। এই ভুলটা মামলার বাদীর, আমার নয়।
নাটোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শরীফুল হক মুক্তা জানিয়েছেন, একজন নিষ্পাপ ব্যক্তি বিনা অপরাধে শাস্তি পেতে পারেন না। সংশ্লিষ্ট সকলকে সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে তথ্য সরবরাহ করা উচিত। এ বিষয়ে সকলকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
নাটোর জজ কোর্টের পিপি রুহুল আমীন তালুকতার টগর বলেন, ফৌজদারি মামলায় অনেক সময় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পরিবারের সবাইকে আসামি করার প্রবণতা দেখা যায়। তবে কোনো শিশুর নাম অন্তর্ভুক্ত হলে পুলিশের তদন্ত পর্যায়েই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা উচিত ছিল। কীভাবে একটি সাত বছরের শিশুর নাম তদন্ত এড়িয়ে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।