সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

ইসরায়েল ইস্যুতে ইউরোভিশন বয়কট, অংশ নিচ্ছে না ৫ দেশ

সোনার দেশ ডেস্ক ১৩ মে ২০২৬ ১২:০৩ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ১৩ মে ২০২৬ ১২:০৩ অপরাহ্ন
ইসরায়েল ইস্যুতে ইউরোভিশন বয়কট, অংশ নিচ্ছে না ৫ দেশ

নেদারল্যান্ডস, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া ও আইসল্যান্ড—এই পাঁচ দেশ ইসরায়েলের গাজা অভিযানের সমালোচনা করে ইউরোভিশন সং কনটেস্ট (ইএসসি) বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১৯ মে সুইজারল্যান্ডের বাসেল শহরে শুরু হতে যাওয়া ইউরোপের সবচেয়ে বড় এই সংগীত আয়োজনকে ঘিরে এ সিদ্ধান্ত নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।

বিষয়টি এখন শুধু সাংস্কৃতিক অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ভেতরে ইসরায়েল নীতিকে ঘিরে গভীর মতপার্থক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

ইউরোপীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, এবারের ইউরোভিশন সং কনটেস্টের মূল আয়োজন শুরু হচ্ছে আগামী মঙ্গলবার।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা এতে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও ইসরায়েলকে ঘিরে বিতর্ক পুরো আয়োজনের আমেজকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। সবশেষ নেদারল্যান্ডসের বর্জনের ঘোষণার পর ইউরোভিশনের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

যদিও সরকারের এই সিদ্ধান্তে জনমত বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একাংশের মতে, গাজায় চলমান পরিস্থিতি থেকে ইউরোভিশনকে আলাদা করে দেখা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, শিল্পীদের কঠোর পরিশ্রম ও সৃজনশীলতার মঞ্চকে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত করা ঠিক নয়।

এদিকে জরিপ বলছে, দেশটির অর্ধেকের বেশি মানুষ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা এনপিওর ইউরোভিশন বর্জনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে। এনপিওর আওতাধীন সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান অ্যাভরোট্রস সাধারণত ইউরোভিশনে নেদারল্যান্ডসের অংশগ্রহণের আয়োজন করে থাকে।

প্রসঙ্গত, নেদারল্যান্ডস ৭০ বছর আগে ইউরোভিশনের প্রথম আয়োজন থেকেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আসছে এবং পাঁচবার বিজয়ীও হয়েছে। কিন্তু এবার দেশটি মূলত দুটি কারণে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। প্রথমত, গাজায় ইসরায়েলি সরকারের সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রতি বিরোধিতা। দ্বিতীয়ত, গতবার সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ইউরোভিশনে ইসরায়েলি শিল্পীর পক্ষে ভোট আদায়ে ইসরায়েল সরকার অর্থায়ন করেছে, এমন অভিযোগ ওঠে। অনেকেই বিষয়টিকে প্রতিযোগিতার ন্যায্যতার পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন।

এদিকে এসব অভিযোগের পর ইউরোভিশনের আয়োজক ইউরোপীয় ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন (ইবিইউ) এবারের প্রতিযোগিতার কিছু নিয়ম পরিবর্তন করেছে। তবে তাতেও ইউরোপজুড়ে অসন্তোষ কাটেনি। স্পেন, স্লোভেনিয়া, আইসল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডও একই যুক্তিতে প্রতিযোগিতা বয়কটের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। তবে ৩৫টি দেশ এখনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইউরোভিশনকে ঘিরে এই বিরোধ আসলে ইইউর ভেতরে ইসরায়েল নীতি নিয়ে চলমান বিভক্তিরই প্রতিফলন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে একটি অভিন্ন নীতি অনুসরণের চেষ্টা করলেও বাস্তবে সদস্যদেশগুলোর অবস্থান একেক রকম। সব দেশই নীতিগতভাবে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে থাকলেও বাস্তবতার আলোকে নীতি নির্ধারণে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

ইউরোপের উদারপন্থীদের মতে, দীর্ঘ আলোচনার পর সম্প্রতি ইইউ ইসরায়েলি নাগরিকদের একাংশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় একমত হয়েছে। তবে অনেক দেশের মতে, এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। বেলজিয়াম পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। নেদারল্যান্ডস ও ইতালি ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা স্থগিত করেছে।

অন্যদিকে স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও স্লোভেনিয়া ইইউ-ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি স্থগিতেরও দাবি জানিয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল ইউরোপীয় বাজারে বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে এবং ইইউ বর্তমানে দেশটির সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার।

তবে ইসরায়েল সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনের বিভিন্ন উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। কারণ, ২৭ সদস্যের ইইউর মধ্যে এ বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি দেশ নিজেদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী নীতি নির্ধারণ করছে, যা সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজনৈতিক প্রভাব দুর্বল করছে। বড় রাজনীতির মতোই বিনোদন অঙ্গনেও একই বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত স্পেনের মতো বড় অর্থদাতা দেশগুলোর বয়কট ইউরোভিশনের আয়োজক সংস্থা ইবিইউর জন্যও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

কখ্যসূত্র: বাংলানিউজ