এবার আদা ও পেঁয়াজের দামে উর্দ্ধগতি
এখনই বাজার তদারকির প্রয়োজন
ইদুল আজহার আরো সপ্তাদেড়েক বাকি আছে, এরই মধ্যে আদা ও পিঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে ইদের দিন যত ঘনিয়ে আসবে- মশলা জাতীয় পণ্যের দাম বাড়তেই থাকবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়ছে। সাধারণ ভোক্তারা ইতোমধ্যেই দারুণ অস্বস্তির মধ্যে পড়েছেন। সংসারের ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে টানাপোড়নের উদ্বেগ-অনিশ্চয়তা জেকে বসেছে।
সোনার দেশ পত্রিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- চলতি সপ্তাহে অন্য পণ্যের সাথে পেঁয়াজ ও আদার দাম বেড়েছে। সাত দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বাড়লেও, আদার বাজার আরও বেসামাল। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি আদা ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার পর্যন্ত প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়, যা মাত্র এক সপ্তাহ আগেও ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। বলা হচ্ছে- আসন্ন ইদুল আজহাকে সামনে রেখে পণ্যের দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে। অথচ মশলা জাতীয় পণ্যের কেনাকাটা এখনও শুরু হয়নি। অন্তত আরো ৭ দিন পর কেনাকাটায় গতি আসবে। তা হলে এখনই কেন বাজার উত্তপ্ত হয়ে উঠলো? এ প্রশ্ন ভোক্তাদের।
বাজারে আদা ও রসুনের চাহিদার বড় একটি অংশ চিন, ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা হয় ডলারের উচ্চ মূল্যের কারণে এলসি বা ঋণপত্র খুলতে জটিলতা এবং আমদানি খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় এর প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারে পড়ছে বলেই ধারণা। চিন ও ভারতের মতো প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোতে প্রতিকূল আবহাওয়া বা খরার কারণে ফলন ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারেই আদা-রসুনের সরবরাহ কমে যায়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশজুড়ে পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে পণ্য আমদানির পর পাইকারি বাজার থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছাতে খরচ বেশি হচ্ছে।
তবে ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আদার দাম বাড়িয়ে দেয়া এ দেশে নতুন কিছু নয়। দাম বাড়ানোর জন্য যৌক্তিক না হলেও নানা অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়। বাজারে দাম বাড়ছে পাল্লা দিয়েÑএটা অস্বাভাবিক। যা কেবল কারসাজির মাধ্যমেই সম্ভব। বাজার নিয়ন্ত্রণের শক্ত কোনো ব্যবস্থা না থাকার কারণে ব্যবসায়ীরাই বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন। এ ক্ষেত্রেই সাধারণ ভোক্তাদেরই ভুগতে হয় বেশি।
বাজার দরে উলল্ফনের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে বাজার পরিস্থিতি যে আরো বেগতিক হবে তা ধারণা করাই যায়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, গত এপ্রিল মাসে দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে। অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির চাপ সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির প্রবণতায় লাগাম দেয়াটাই এই মুহূর্তের বড় চ্যালেঞ্জ।
অর্থনীতিবিদদেও ভাষ্য বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং কার্যকর নজরদারির অভাবে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। ইদ সামনে রেখে এখনই কঠোর বাজার তদারকি না বাড়ালে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।