মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬

টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ

সোনার দেশ ২১ মে ২০২৬ ০১:১৪ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২১ মে ২০২৬ ০১:১৪ পূর্বাহ্ন
টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ

উন্নতির পথে বাংলাদেশ

দেশের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবার পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে এলো সুখবর। প্রথমবারের মতো টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের সাত নম্বরে উঠেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে মন্থর পিচের পরিবর্তে পেস বোলিং এবং ব্যাটিং সহায়ক পিচ বেঁছে নেওয়া হয়। সিলেটের পিচও ছিল প্রায় একই। দুই ম্যাচেই ব্যাটে-বলে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে দল। সিলেটে ম্যাচ শেষে র‌্যাঙ্কিং হালনাগাদ করেছে আইসিসি। বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট বেড়েছে। এর ফলে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং পাকিস্তানকে টপকে টেবিলের সাত নম্বরে উঠেছে টাইগাররা। অন্যদিকে, সিরিজ হেরে পাকিস্তান দল দুই ধাপ পিছিয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ের আট নম্বরে নেমেছে।


এক সময় ছিল কোনো একটা বাজে হারের পর, ‘উন্নতি নেই’, কোথাও ভালো একটা কিছু করলে ‘আরও উন্নতি দরকার’, ব্যর্থতার পরও ‘উন্নতি করব।’ বাংলাদেশের ক্রিকেটে ‘উন্নতি’ কথাটা এক সময় বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু বিশ্বাস করুন, বাংলাদেশ ক্রিকেটে সত্যিই উন্নতি করছে। অঙ্কের হিসাবে অন্তত টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের উন্নতির ছাপটা স্পষ্ট। টেস্টে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের জয় ২৭টি। দুই ভাগে ভাগ করুন এই জয়গুলোকে-২০১৮ সালের ৩০ নভেম্বর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৩তম জয়টা পেতে ১১২টি ম্যাচ লেগেছে। আর পরের ১৩ জয়ে? ৪৫ ম্যাচ। গত আট বছরে বাংলাদেশ প্রায় প্রতি তিন টেস্টের একটা জিতেছে!  নিশ্চয়ই সহজ কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এসেছে এসব জয়! তা-ও আসলে পুরোপুরি ঠিক নয়।


হ্যাঁ, আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় আছে, মুখোমুখি হওয়া প্রথম টেস্টেই লজ্জার হার উপহার দেওয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষেও। কিন্তু বাকিগুলো? সিলেট টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় পাওয়ার পর তাদের বিপক্ষে টানা চার জয় এসেছে। হয়তো এটাও যে এই টানা চার জয়ের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৩ ম্যাচে বাংলাদেশের সম্বল বলতে ছিল শুধু একটা ড্র, জয় ছিল তখনো বহুদূরের কল্পনা। নিউজিল্যান্ডকে ঘরে ও বাইরে দুই জায়গাতেই হারিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে একটি তো বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার মতো-মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট জয়! অথচ ওই জয়ের আগে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কোনো সংস্করণেই বাংলাদেশের জয় ছিল না। দুই বছর আগে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে আরও একবার হারিয়ে এসেছে তাদেরও।


শুধু কি পেসার? তা-ও না। স্পিনারদের কথা তো আর আলাদা করে বলার দরকার নেই। ২০১৫ সালে অভিষেক হওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ আলো ছড়িয়েছেন শুরু থেকেই, তাইজুল ইসলাম পরিণত হয়েছেন সময়ের সঙ্গে। তাদের দুজনের ভিড়ে যখনই নাঈম হাসান কিংবা হাসান মুরাদ সুযোগ পেয়েছেন, বুঝিয়েছেন সামর্থ্য আছে তাদেরও। কিন্তু শুধু বোলারদের দিয়ে তো আর ম্যাচ জেতা যায় না, স্কোরবোর্ডে রানও থাকতে হয়। এখনো প্রায়ই তা থাকে না, সত্যি। কিন্তু চাইলে যে তারা রান করতে পারবেন, তা কে অস্বীকার করবে! বাংলাদেশ টেস্ট দলটা এখন এমন, নতুন কেউ দলে এলে প্রশ্নটা শোনা যায়। সে-কার জায়গায় খেলবে?’-এটাকেও উন্নতি বলাই যায়?