সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত দেশ কোনটি?

সোনার দেশ ডেস্ক ২৪ মে ২০২৬ ০৯:২২ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২৪ মে ২০২৬ ০৯:২২ অপরাহ্ন
বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত দেশ কোনটি?
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত দেশ নির্ধারণ করতে গেলে কেবল সাক্ষরতার হার দেখলেই হয় না; দেখতে হয় কত শতাংশ মানুষ উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এই তুলনায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয় International Standard Classification of Education (আইএসসিইডি), যা শিক্ষাকে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করে আন্তর্জাতিক তুলনা করার সুযোগ দেয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা যেখানে মৌলিক সাক্ষরতা ও ভিত্তি গড়ে তোলে, সেখানে তৃতীয় স্তরের শিক্ষা—অর্থাৎ মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রশিক্ষণ—উন্নত জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদান করে।


গত দুই দশকে বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষায় অভূতপূর্ব বিস্তার ঘটেছে। টঘঊঝঈঙ-র তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে বিশ্বে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ কোটি, যা ২০১৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২০ কোটি ৭০ লক্ষে। দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দেশ বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্র বাড়িয়েছে।


উচ্চশিক্ষায় অগ্রগতির ভিত্তিতে দেশগুলিকে মূল্যায়ন করে Organisation for Economic Co-operation and Development (ওইসিডি)। ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে তৃতীয় স্তরের শিক্ষা সম্পন্নের হার অনুযায়ী বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে ঈধহধফধ, যেখানে এই হার ৬৩ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে জাপান (৫৬ শতাংশ), আয়ারল্যান্ড (৫৪ শতাংশ) এবং দক্ষিণ কোরিয়া  (৫৩ শতাংশ)। এছাড়া ব্রিটেন , আমেরিকা , অস্ট্রেলিয়া , ফিনল্যান্ড , নরওয়ে ও লুক্সেমবুর্গ-ও শীর্ষ দশে রয়েছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, কানাডার শক্তিশালী কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা এই সাফল্যের মূল কারণ। অন্যদিকে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া অর্থনৈতিক উন্নয়নের কৌশল হিসেবে উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণে দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগ করেছে।


আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রজন্মভিত্তিক পরিবর্তন। তরুণদের মধ্যে উচ্চশিক্ষা সম্পন্নের হার প্রবীণদের তুলনায় অনেক বেশি। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৫–৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ তৃতীয় স্তরের শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন, যা বয়স্ক প্রজন্মের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই প্রবণতা কানাডা ও জাপানেও দেখা যায়। অর্থাৎ, আগামী দশকে এই দেশগুলির শিক্ষার হার আরও বাড়বে।


শিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের চাবিকাঠি নয়, এটি অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। এষড়নধষ চধৎঃহবৎংযরঢ় ভড়ৎ ঊফঁপধঃরড়হ-এর মতে, উচ্চশিক্ষা কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ায়, আয় বৃদ্ধি করে এবং সামগ্রিক জীবনমান উন্নত করে। যেসব দেশে উচ্চশিক্ষিত মানুষের হার বেশি, সেসব দেশ সাধারণত প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও উৎপাদনশীলতায় এগিয়ে থাকে।


তবে বিশ্বব্যাপী শিক্ষা বিস্তৃত হলেও উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে কলেজ সম্পন্নের হার অনেক বেশি, অন্যদিকে বহু উন্নয়নশীল দেশে এখনো মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকারের বিস্তার চলছে। কিছু অনুন্নত দেশে মৌলিক বিদ্যালয়শিক্ষাও সীমিত।


সার্বিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তৃতীয় স্তরের শিক্ষা সম্পন্নের হারের বিচারে কানাডাকেই বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত দেশ বলা যায়। তবে বিশ্ব অর্থনীতি যত বেশি দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছে, ততই শিক্ষা ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রধান শক্তি হয়ে উঠছে।


তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন