সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

এবারও চামড়ার বাজারে বিশৃঙ্খলা

সোনার দেশ ৩১ মে ২০২৬ ১০:৪৭ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ৩১ মে ২০২৬ ১০:৪৭ অপরাহ্ন
এবারও চামড়ার বাজারে বিশৃঙ্খলা

একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ হবে কি?

এবারও ইদুল আজহার কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার বাজারে বিশৃঙ্খলা পরিলক্ষিত হলো। সরকারি ঘোষণার পরও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা সম্মুখিন হয়েছেন। দাম না পেয়ে অনেকেই পুঁজি হারিয়েছেন। বলা হচ্ছে, সিন্ডিকেশন করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল কাঁচা চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এরফলে তারাই অনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছে। এরচেয়েও বড় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কথা হলো-কাঁচা চামড়ার মূল্য না পেয়ে শত শত চামড়া নদীতে অথবা পুকুরে নিক্ষেপ করা হয়েছে। কেউবা রাস্তায় চামড়া ফেলে চলে গেছে। দেশের অর্থকরি চামড়া-সম্পদের এমন বিশৃঙ্খলার চিত্র চরম হতাশারই কারণ হয়েছে। 


যদিও সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে- বাড়তি খরচ ও অর্থসংকটে ব্যবসায়ীরা, রপ্তানি না হওয়া, স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর মনিটরিঙের অভাব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা, চাহিদার চেয়ে বেশি পশু, বাজার উন্মুক্ত করা, সচেতনতা বাড়াতে প্রচারনা বাড়ানো, কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ না করা এবং বাস্তবভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ না থাকায় প্রতিবছরের মতো এবারও চামড়া বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ফলে চামড়ার প্রকৃত হকদাররা বঞ্চিত হচ্ছেন, আর নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া।


এ ধরনের বক্তব্য নেহাতই সরলিকরণ, উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং প্রকৃত সমস্যাকে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা হিসেবেই দেখা যেতে পারে। বাজার মনিটরিঙের প্রকট সমস্যা তো আছেই- কিন্তু সিন্ডিকেট করে চামড়ার দর পতনের কারসাজিও আছে। প্রতিবছরই সিন্ডিকেটের প্রসঙ্গ আসলেও বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায় নি। অথচ ছোট ছোট উদ্য্গো- যারা মৌসুমী ব্যবসায়ী হিসেবে চামড়া সংগ্রহের জন্য অর্থ-বিনিয়োগ করেন লাভের আশায়, তারা সরকারের বেঁধে দেয়া দর বিবেচনায় নিয়েই কোরবানিদাতাদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করেন। কিন্তু দিনশেষে কেনা চামড়া নিয়ে তাদের বিপদে পড়তে হয়। পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হতে হয়। অথচ সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সম্মতিতে। ছোট ছোট উদ্যোক্তারা এ ভাবে বিপর্যস্ত হতে থাকলে দেশের অর্থনীতি নির্ভরতার সাথে দাঁড়াতে পারে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। প্রতিটি বিনিয়োগের সুরক্ষা দেয়া বাঞ্ছনীয়। 


চামড়ার বাজার নিয়ে যারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে, তারা সমসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে- তা চিহ্নিত করা খুবই জরুরি। এর সাথে যে বা যারাই জড়িত আছে তাদের আইনের আওতায় আনা বাঞ্ছনীয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে একটা সমাধানে আসতেই হবে। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। চামড়া শিল্পে আস্থা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থেই প্রয়োজন।