রাসিক-এর বৃক্ষরোপন কর্মসূচি শুরু
জীবনের জন্য গাছ লাগানোর দায় সকলের
বর্ষাকাল সমাসন্ন। বৃক্ষ রোপনের যথার্থ সময় এটি। গাছ বছর জুড়েই লাগানো হয়- কিন্তু বর্ষায় গাছ লাগানো হয় উৎসবের মত করে। বৃক্ষ মেলা হয়, পরিকল্পনা করে গাছ লাগানো হয়। সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়- গাছ লাগানোর উৎসবে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন আগেভাগেই বৃক্ষ রোপনের প্রস্তুাতি নিয়ে রেখেছে। এমনিতেই রাজশাহীকে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন নগরী বলা হয়। জাতীয় স্বীকৃতিও আছে বারবার। ধারাবাহিকভাবেই রাজশাহী সিটি করপোরেশন বৃক্ষরোপন করে থাকে। ফলে নগরীর সবুজ কখনো মিয়্রমান হয় না।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষে রাজশাহী সিটি করপোরেশন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার বৃক্ষরোপন করবে। ৩ জুন দুপুরে নগরীর চৌদ্দপাই এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক বিভাজকে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে নগরজুড়ে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধনও করেছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
তথ্যমতে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৫৩ হাজার গাছ রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নগরীর সবুজায়ন বৃদ্ধি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সৌন্দর্য্যবর্ধনের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হবে। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে এই বৃক্ষরোপন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
দেশে বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ভৌগোলিক অবস্থান ও ঘনবসতির কারণে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি কমাতে গাছ লাগানো অত্যন্ত জরুরি। বৃক্ষ আমাদের অক্সিজেন দেয়, কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে, মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে।
অতিরিক্ত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাস করতে গাছের কোনো বিকল্প নেই। গাছ ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে বায়ুমণ্ডলে বিশুদ্ধ অক্সিজেন সরবরাহ করে। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার প্রভাব কমাতে ম্যানগ্রোভ বন (যেমন- সুন্দরবন) ঢাল হিসেবে কাজ করে। বৃক্ষ শিকড়ের সাহায্যে মাটির ক্ষয় রোধ করে। বনজ ও ঔষধি গাছ আমাদের কাঠের চাহিদা মেটায় এবং খাদ্য ও পুষ্টি জোগায়। বৃক্ষরোপণভিত্তিক অর্থনীতি ও নার্সারি ব্যবস্থাপনা বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। পশুপাখি ও বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গাছ প্রধান ভূমিকা পালন করে। গাছপালা মেঘ আকর্ষণ করে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতে সাহায্য করে, যা কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য। এলাকার ফাঁকা জায়গা, বাড়ির আঙিনা, কিংবা রাস্তার ধারের মতো স্থানে বনজ ও ফলদ বৃক্ষরোপণ করা যেতে পারে। পরিবেশ রক্ষায় ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী সরকার বিভিন্ন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করছে।
পানি, গাছ ও আর সব প্রাণ-প্রকার একে অপরের পরিপূরক। এর মধ্যেকার বিচ্ছিন্নতা কিংবা শত্রুতা জীবনের অবসান ঘটাতে পারে। তাই উভয় বৈচিত্র ও বৈশিষ্টের প্রতি ন্যায্যতার সুরক্ষা অপরিহার্য। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করার দায়টা কেবল মানুষেরই। গাছ লাগানোর দায় আমাদের সবার। প্রাণ রক্ষায় প্রাণের উৎসবে সবাই বৃক্ষরোপনে আগ্রহী হবে- সেটাই একান্তভাবে কাম্য।