ভাঙ্গুড়ায় পাট ক্রয় কেন্দ্রের জমি অবৈধ দখলে
জমি উদ্ধারে সরকারের পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হোক
সরকারি জমি দখল করে ওই জমির ওপর বিভিন্ন স্থাপনা তৈরির খবর প্রায়ই সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়। সঠিক তদারকির অভাবে দখলদারিত্ব স্থায়ী রূপ নেয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মিথ্যে দলিল করে সরকারি জমির কেনাবেচা বা হাত-বদলের ঘটনার কথা জানা যায়। কেউ বা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে লিজ নেয়। অনেক ক্ষেত্রে লিজ রেনিউ না করে বছরের পর বছর জমি ভোগদখল করে থাকে। যারা সরকারি জমি অবৈধ দখলে রাখে তারা স্থানীয় প্রভাবশালী হয়ে থাকেন। রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ও তারা পেয়ে থাকেন। ফলে উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়ালব্রিজ রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন চৌবাড়িয়া গ্রামের কোল ঘেঁষে বড়ালব্রিজ রেলওয়ে খেলার মাঠের দক্ষিণে বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের পাটক্রয় কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে কতিপয় লোক অবৈধ দখলে রেখেছে। সেখানে আবাসিক থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। তথ্যমতে সরকারি ওই জমি কেউ কেউ মিথ্যে দলিল করে অন্যের কাছে বিক্রি পর্যন্ত করেছেন।
নব্বুয়ের দশকের শেষ নাগাদ পাটক্রয় কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায় বলে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই পাটক্রয় কেন্দ্রের বেশিরভাগ জমি এখন প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের চোখের সামনে প্রকাশ্যে দখলবাজি চললেও ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের অভিমত পাটক্রয় কেন্দ্রটি অনেক বছর যাবত অরক্ষিত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়েছিল। বর্তমানে বেদখল হয়ে গেছে। জমি কেনাবেচা হচ্ছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই। এটা যদি উদ্ধার করে চালু হয় তাহলে এলাকার মানুষের জন্য অনেক উপকারে আসবে। তবে কেউ কেউ দাবি করেছেন তারা বৈধভাবে লিজ নিয়ে আছেন।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর দেয়া তথ্যমতে, ওই জমিটি বর্তমানে পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে আছে। রেকর্ডীয় মালিক জেলা প্রশাসন। তবে এ বিষয়ে পাট মন্ত্রণালয়ের সাথে একটি মামলা চলমান রয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫-২০২৭ সাল পর্যন্ত গোলজার হোসেন নামের একজনকে পাট মন্ত্রণালয় থেকে ইজারা দেয়া আছে। পাটক্রয় কেন্দ্রের মোট জায়গা ৩ দশমিক ৫৫ একর। গোলজার লিজ নিয়েছেন ২ দশমিক ১৯ একর। তবে অবৈধ দখলের কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের উপপরিচালক জায়গা অবৈধ দখল হয়েছে স্বীকার বলেন, পাবনা জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানান হয়েছে। শিগগিরই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।
আশার কথা যে, জুট করপোরেশন অবৈধ দখল উচ্ছেদের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে পাটক্রয় কেন্দ্রটির অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে সেটাই প্রত্যাশিত।