সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

পদ্মাচরে দুর্বৃত্ত বাহিনির নৈরাজ্য

সোনার দেশ ১৩ জুন ২০২৬ ১০:৫৬ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১৩ জুন ২০২৬ ১০:৫৬ অপরাহ্ন
পদ্মাচরে দুর্বৃত্ত বাহিনির নৈরাজ্য

সন্ত্রাসী বাহিনি দমনে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

পদ্মা নদীচরে দুর্বৃত্তদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংঘটিত হচ্ছে দীর্ঘ সময় ধরে। হত্যা ও লুটপাটের ঘটনা লেগেই থাকে। রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, পাবনার ঈশ্বরদী এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের পদ্মা চরে সন্ত্রাসী বাহিনিগুলো হানাহানির ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনি মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করেছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধারের মত সফলতার খবরও আছে। কিন্তু ওইসব চরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থামানো সম্ভব হয় নি। স্থানীয় সাধারণ মানুষ সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করে আসছেন।  


সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পদ্মার চরে দুর্বৃত্তের গুলিতে ৮ মাসের ব্যবধানে ৬ জন খুন হয়েছে। এসব খুনের কোনো আসামীকে পুলিশ চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে পারেনি। খুনের ঘটনাগুলো ঘটেছে রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, পাবনার ঈশ্বরদী এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের পদ্মার চরে। পুলিশের তালিকায় পদ্মার চরে গড়ে উঠেছে ১১টি সন্ত্রাসী  বাহিনি। তারা দিনের পর দিন চরের মানুষকে জিম্মি করে অত্যাচার, নির্যাতন ও গুলি করে হত্যা করে চলেছে।


জানা গেছে, পদ্মার চর এলাকা ভারতের সীমান্ত হওয়ায় অবৈধভাবে সন্ত্রাসী বাহিনি ভারত থেকে অতি সহজে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে বলে স্থানীয়রা জানান। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৯ জুন পর্যন্ত ওই ৬ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।


চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে দুবৃত্তরা গুলি করে সোহেল রানা নামের এক যুবককে হত্যা করে। সোহেল রানা বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের পলাশি ফতেপুর করালি নওশারার চরের কালু মন্ডলের ছেলে। এ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় তৈরি ২টি বন্দুক, ৭টি পিস্তল, ২৪ রাউন্ড কার্তুজ, ৫টি মোটরসাইকেল, মাদকদ্রব্য, ইঞ্জিনচালিত নৌকা, স্পিডবোট, অস্ত্র রাখার সিলিন্ডার, ছয়টি বড় ডেগার, ২২টি হাঁসুয়া, চারটি ছোরা, দুটি চাপাতি, একটি দা, একটি লোহার পাইপ, একটি টিউবওয়েল ও একটি চকি উদ্ধার করে।


পুলিশের তালিকা অনুযায়ী ওইনব চরে ১১ টা সন্ত্রাসী বাহিনি চরের দখলদারিত্ব বজায় রেখেছে। বাহিনিগুলোর মধ্যে প্রভাব বিস্তারের জন্য এসব সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের মত ঘটনা ঘটে থাকে। এই প্রভাব বিস্তারের নেপথ্যে আছে বালু মহলের দখল এবং মাদক চোরাচালান। 


পদ্মার চরে সন্ত্রাসী বাহিনি দমনের প্রধান উপায় হলো চরাঞ্চলে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন এবং প্রযুক্তিনির্ভর যৌথ অভিযান পরিচালনা করা। চরের ভৌগোলিক দুর্গমতাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। তাই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সমন্বিত ও আধুনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।