সৌদি আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে বাগমারার শ্যামল মাঝি নিহত
সৌদি আরবের একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশের ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে রাজশাহীর বাগমারার শ্যামল উদ্দিন মাঝি (৪৬) নামে এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিন মাঝির ছেলে। রোববার (৯ আগস্ট) রাতে সৌদি আরবের রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে তিনি নিহত হয়েছেন।
নিহত শ্যামল মাঝির জামাই মিজানুর রহমান এবং শ্যালক ইয়াকুব আলী জানান, আগামী শুক্রবার (১৪ আগস্ট) শ্যামল মাঝির দেশে আসার কথা ছিল।
পরিবারের বড় মেয়ে শামিমা জানান, অভাবের তাড়নায় ভাগ্য পরিবর্তনের আসায় বাবা (শ্যামল উদ্দিন মাঝি) ২০১৯ সালে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তিনি সৌদি আরবের রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় সোফা তৈরি কারখানায় কাজ করতেন। গত রোববার (৯ আগস্ট) সোফা কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বাবা মারা যান। একই কারখানায় পাশের নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আরও কয়েকজন কাজ করতেন। শামিমা পিতার সহকর্মীদের বরাত দিয়ে বলেন, ঘটনার সময় সবাই রুমে ছিলেন। তবে দুইজন ধুমপানের জন্য বাইরে গেলে তারা বেঁচে যায়। অন্যরা আগুনে পুড়ে মারা যায়। পিতার মৃত্যুর সংবাদে অপর মেয়ে নাদিয়া (এবারে এসএসসিতে পাশ করলো)। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। একই ভাবে ছোট মেয়ে জিনিয়া দশম শ্রেণির ছাত্রী বাবাকে হারিয়ে এবং তাদেও মা রশিদা বিবি মূর্ছা যাচ্ছেন।
এক সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফেরার কথা থাকওে তার এমন মৃত্যু কিছুতে মেনে নিতে পারছে না পরিবারের সদস্যরা। আহাজারিতে সকলের কাছে নিহতের মরদেহ দেশে এনে দাফন করতে সহযোগীতা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ বলেন, আমি ওই পরিবারের সদস্যদের কাছে গিয়েছি এবং তাদের তাৎক্ষনিক ভাবে ২৫ হাজার টাকা ও শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে। মরদেহ যাতে দ্রুত আনা যায় সে চেষ্টা করছি।