শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

নাটোরে সরকারি দলীয় নেতাকর্মীদের হামলা, ভাঙচুর দুই ওসির প্রত্যাহার চেয়ে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম সাংবাদিক নেতাদের

নাটোর প্রতিনিধি ১৩ আগস্ট ২০২৬ ১০:১০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নাটোর প্রতিনিধি ১৩ আগস্ট ২০২৬ ১০:১০ অপরাহ্ন
নাটোরে সরকারি দলীয় নেতাকর্মীদের হামলা, ভাঙচুর দুই ওসির প্রত্যাহার চেয়ে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম সাংবাদিক নেতাদের

নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় ফ্যামেলি কার্ডের সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে দুই উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অফিসে হামলা, সরকারি কর্মকর্তা ও ৬ জন সাংবাদিকদেক মারপিটের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের হয়নি। তাছাড়া সরকার দলীয় নেতা কর্মীরা সরকারি সম্পদ নষ্ট ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করলেও মামলার কোন তোড়জোড় নেই দুই উপজেলার ইউনএনওদের। 

এদিকে, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মিদের হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা। এসময় লালপুর ও বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দেন তারা। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

গত বুধবার দুপুরে লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ইউএনওর কার্যালয়ে সামনে বিক্ষোভ করে। এসময় মিছিল নিয়ে বিক্ষুব্ধরা  বাগাতিপাড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসারের রুমের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। এসময় বেশ কিছু ফুলের টব, ইউএনও অফিসের গেট ভাংচুর, কৃষি অফিসার ও এক অফিস সহকারীকে মারপিট করে ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা। এসময় ভিডিও করতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিক ফজলুর রহমান ফজলু, খাদেমুল ইসলাম সহ তিন সাংবাদিককে মারপিট এবং চ্যানেল ওয়ান ও স্টার নিউজ টিভির সাংবাদিককে লাইভ সম্প্রচারে বাধা করে তারা। 

এছাড়া একই দাবিতে লালপুর উপজেলায় ইউএনও অফিস ঘেরাও করে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাংচুর, সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানা এবং আইসিটি কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানা কে লাঞ্ছিত করে সরকার দলীয় নেতাকর্মিরা। এসময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে মানবজমিনের সাংবাদিক রাসেদুল এবং এনটিভি অনলাইনের সাজিবুল ইসলাম হৃদয় কে মারপিট করে তারা। 

এসব ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দুই উপজেলার ইউএনও কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। 

এনিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে দুই জেলার ইউএনও কেউ ফোন রিসিভ করেননি। 

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি সম্পদ নষ্ট হলেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।  

তবে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শফিকুল  ইসলাম এবং বাগাতিপাড়া থানার ওসি আব্দুল হান্নান বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এদিকে, দুই উপজেলায় সাংবাদিকদের মারপিটের ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।

এসময় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পুলিশের দায়িত্ব ছিল সাংবাদিক এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু তারা সেই দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই ইউএনওকে অবরুদ্ধ করা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

নাটোর ইউনাইটেড প্রেসক্লাবের সভাপতি নাসিম উদ্দিন নাসিম বলেন, মব সৃষ্টি করে সাংবাদিকদের মারধর করা হয়েছে। ইউএনওর কলার ধরে ঝাঁকানো হয়েছে। ঘটনার পর নির্যাতিত সাংবাদিকরা থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা দলীয় নেতাকর্মীদের জানিয়ে দেন। তিনি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং দুই থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষনা দেন।