তেলের বাড়তি চাহিদা মেটাতে ১০ বিলিয়ন ডলারে শোধনাগার করবে ভারত
ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ১০ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে নতুন তেল শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স স্থাপনের পরিকল্পনা করছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ভারত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন লিমিটেড (বিপিসিএল)। অন্ধ্রপ্রদেশের রামায়াপত্তনম বন্দরের কাছে স্থাপিতব্য এ শোধনাগারের পরিশোধন সক্ষমতা হবে বছরে ৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন (এমএমটিপিএ)।
পলিমার আপডেটের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এ প্রকল্পে পেট্রোলিয়াম পণ্যের পাশাপাশি পেট্রোকেমিক্যাল ও অন্যান্য উপজাত উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই, জমি অধিগ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলো মূল্যায়ন করছে বিপিসিএল। এরই মধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে তেল পরিশোধন সক্ষমতা সংকুচিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজস্ব পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত।
বর্তমানে মুম্বাই, কোচি ও বিনায় অবস্থিত তিনটি শোধনাগারে বিপিসিএলের মোট পরিশোধন সক্ষমতা বছরে ৩৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন। ২০২৮ সালের মধ্যে এ সক্ষমতা বাড়িয়ে ৪৫ এমএমটিপিএ করার পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির।
রামায়াপত্তনমের নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিপিসিএলের পরিশোধন সক্ষমতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে পেট্রোকেমিক্যাল খাতে কোম্পানিটির পণ্যের পরিসর সম্প্রসারিত হবে। দীর্ঘ মেয়াদে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং দেশটিকে বৈশ্বিক পরিশোধন ও পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যেও ভূমিকা রাখবে প্রকল্পটি।
বিপিসিএলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্জয় খান্না সম্প্রতি শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ভারতের জ্বালানি চাহিদা বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ ভারত। ২০৩০ সাল নাগাদ দেশটিতে দৈনিক অতিরিক্ত ১০ লাখ ব্যারেল তেলের চাহিদা তৈরি হতে পারে, যা বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ।
সঞ্জয় খান্নার তথ্যমতে, বর্তমানে ভারতে অপরিশোধিত তেলের চাহিদা দৈনিক প্রায় ৫৫ লাখ ব্যারেল। ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বে তেলের চাহিদা দৈনিক ২৫ লাখ ব্যারেল বাড়ার যে পূর্বাভাস রয়েছে, তার উল্লেখযোগ্য অংশ আসবে ভারত থেকে।
তিনি আরও জানান, ভারতের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে রামায়াপত্তনম বন্দরের কাছে নতুন শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স স্থাপনের বিষয়টি মূল্যায়ন করছে বিপিসিএল। এ লক্ষ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নতুন উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে বিপিসিএলের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোম্পানিটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও অর্জন করেছে। ভারতের শিল্পভিত্তি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ