বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬

হ্যালোইনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বন্দুক হামলায় নিহত ২৪

সোনার দেশ ডেস্ক ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০২:২৩ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০২:২৩ অপরাহ্ন
হ্যালোইনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বন্দুক হামলায় নিহত ২৪
হ্যালোইনে নানা রকম সাজে অংশ নেওয়া মানুষ/ ফাইল ছবি: পেক্সেল

ভুতুড়ে সাজে কেউ ঘুরছিলেন রাস্তায়, কেউ মেতেছিলেন বন্ধুদের সঙ্গে পার্টিতে। হ্যালোইনের রাতজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় চলছিল উৎসবের আয়োজন।


তবে আনন্দের সেই পরিবেশ মুহূর্তেই বদলে যায় আতঙ্কে। দেশজুড়ে একের পর এক বন্দুক হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৪ জন, আহত হয়েছেন আরও ৯৪ জন।

গত রোববার (১ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলার ঘটনা ঘটে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ডেলাওয়্যার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। নাইট ক্লাব, পোশাকের দোকান, স্টেডিয়াম ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশপাশে এসব হামলা চালানো হয়।


এর মধ্যে টেক্সাসের ডালাস শহরের ডিপ এলাম এলাকায় মাত্র ৭৫ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি পৃথক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত চারজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হ্যালোইন বছরের সবচেয়ে সহিংস দিনগুলোর একটি। এদিন নানা ধরনের পোশাক পরে উৎসবে যোগ দেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ।


পাশাপাশি, বিভিন্ন পার্টিতে মদ্যপান ও মাদক গ্রহণের ঘটনাও ঘটে। এসবের সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা যুক্ত হলে সহিংসতার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অপরাধবিজ্ঞানী জেমস অ্যালান ফক্সের এক বিশ্লেষণেও এর প্রমাণ পাওয়া গেছে।


২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বোস্টনে এফবিআইয়ের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে তিনি দেখেছেন, বছরের সবচেয়ে সহিংস দিনগুলোর মধ্যে ৩১ অক্টোবরের অবস্থান তৃতীয়। এর আগে রয়েছে ৪ জুলাই ও ১ জানুয়ারি।


শুধু তা-ই নয়, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৩১ অক্টোবর বছরের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিন বলেও জানিয়েছেন ফক্স। তার মতে, এদিন শিশুরা সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে থাকে এবং অপরিচিত মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করে। ফলে, তাদের নিরাপত্তাঝুঁকি আরও বেশি থাকে।


ডেট্রয়েটে হ্যালোইনের পোশাক পরা পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ট্রিক অর ট্রিটিং শেষে বাড়ি ফিরে ঘরের পেছনের একটি কক্ষে খেলার সময় তার বুকে গুলি লাগে। তবে, শিশুটির শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে।


অন্যদিকে, ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলে পৃথক দুটি বন্দুক হামলায় ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন নিহত হয়েছেন। মিসিসিপির জ্যাকসন শহরের একটি নাইট ক্লাবে হামলায় দুজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন।

এছাড়া, উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি পোশাকের দোকানে বন্দুকধারীর হামলায় চার সন্তানের এক অন্তঃসত্ত্বা মা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।


একই সঙ্গে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানেও বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইলিনয় ও ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ব্লুমিংটনে পৃথক হামলায় একজন তরুণী নিহত হয়েছেন।


অন্যদিকে, আলাবামার বার্মিংহামে একটি স্টেডিয়ামের বাইরে বন্দুক হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হ্যালোইনে সহিংসতা ঠেকানো কঠিন। প্রতিটি পানশালা ও পার্কিং এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন ইউনিভার্সিটি অব মায়ামির অপরাধবিজ্ঞানী অ্যালেক্সিস পিকেরো।


তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, জাগোনিউজ