বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬

অ্যাপ মারফত কেনা যাবে সূর্যের আলো!

সোনার দেশ ডেস্ক ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০১:৩৮ অপরাহ্ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সোনার দেশ ডেস্ক ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০১:৩৮ অপরাহ্ন
অ্যাপ মারফত কেনা যাবে সূর্যের আলো!

বিদ্যুতের মতো এবার কি কেনাবেচা করা যাবে সূর্যের আলোও? শুনতে কল্পবিজ্ঞানের গল্প মনে হলেও, এমনই এক অভিনব পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে ক্যালিফোর্নিয়ার মহাকাশ প্রযুক্তি সংস্থা রিফ্লেক্ট অরবিটাল। 


জানা গিয়েছে, মহাকাশে বিশাল আয়না বসিয়ে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে পৃথিবীর নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এই সংস্থা। এতে করে সূর্য অস্ত যাওয়ার পরেও মিলতে পারে সূর্যের আলো!


এই প্রযুক্তি সফল হলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কেন্দ্রগুলিতে আরও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আলো পৌঁছে দেওয়া এবং উদ্ধারকাজেও এই প্রযুক্তি কাজে লাগতে পারে বলে দাবি সংস্থাটির।


এই প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য ভারতের মহাকাশ প্রযুক্তি সংস্থা স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের সঙ্গে দুটি রকেট উৎক্ষেপণের চুক্তিও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই পরিকল্পনা ঘিরে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিশেষজ্ঞ মহলে।


একাংশের আশঙ্কা, মহাকাশ থেকে কৃত্রিমভাবে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করলে রাতের আকাশের স্বাভাবিক অন্ধকার বিঘ্নিত হতে পারে। রিফ্লেক্ট অরবিটালের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পৃথিবীর লো অরবিটে প্রায় ১৮ মিটার বাই ১৮ মিটার আকারের বিশাল আয়না বসানো হবে। 


এই আয়নাগুলিকে নির্দিষ্ট দিকে ঘুরিয়ে সূর্যের আলো পৃথিবীর পছন্দমতো এলাকায় প্রতিফলিত করা হবে। ফলে কোনও অঞ্চলে সূর্য অস্ত গেলেও মহাকাশের আয়নার সাহায্যে সেখানে আলো পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

প্রাথমিক পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত আয়নাগুলি পৃথিবীর প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বিস্তৃত একটি এলাকায় আলো ফেলতে পারবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গ্রাহকরা অ্যাপের মাধ্যমে কোন এলাকায় আলো চান, তা বেছে নিতে পারবেন।


সেই অনুযায়ী মহাকাশে থাকা আয়নার অবস্থান ও দিক নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ২০২৭ সালের মার্চের পরেই এই প্রযুক্তির প্রথম পরীক্ষা হবে বলে জানা গিয়েছে। অবশ্য রিফ্লেক্ট অরবিটালের পরিকল্পনা শুধু কয়েকটি আয়নাতেই সীমাবদ্ধ নয়।

২০৩৫ সালের মধ্যে মহাকাশে ৫০ হাজার স্যাটেলাইট পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সংস্থাটি। তাদের দাবি, এই স্যাটেলাইটগুলির প্রতিফলিত আলো চাঁদের আলোর সমান হতে পারে।


মহাকাশে স্যাটেলাইটের সংখ্যা বাড়লে আলোর উজ্জ্বলতা এবং স্থায়িত্বও বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি। প্রাথমিক পরীক্ষায় ‘ইয়ারেন্ডিল-১’ নামের একটি স্যাটেলাইট ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর সাহায্যে অ্যাপের মাধ্যমে এলাকায় আলো পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে। এই পরিকল্পনায় সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল। মহাকাশ থেকে প্রতিফলিত সূর্যের আলো বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়েছে।


গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বায়ুমণ্ডলের অণু ও অ্যারোসলের কারণে আলোর একটি অংশ আশপাশের আকাশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবার, পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছনো আলো প্রতিফলিত হয়ে উপরের দিকে উঠেও বিক্ষিপ্ত হতে পারে।

ফলে, যে এলাকায় আলো পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, তার বাইরেও বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আলোর আভা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত জুলাইয়ে রিফ্লেক্ট অরবিটাল মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে।


কিন্তু এই প্রকল্প নিয়ে আপত্তি তুলেছেন কয়েকজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পরিবেশ সংস্থার প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে, মনে করা হচ্ছে মহাকাশ থেকে সূর্যের আলো এনে রাতের অন্ধকার দূর করার ধারণা ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিপর্যয় মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। কিন্তু রাতের আকাশ, জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা এবং পরিবেশের উপর এর প্রভাব কতটা পড়বে, সেই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজতে হবে।


তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন