বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬
জমে উঠেছে মেলা

নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নিচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ১০:১৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ১০:১৭ অপরাহ্ন
নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নিচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা

পর্দা নামতে বাকি আর মাত্র দুই দিন। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রাণের স্পন্দনে মুখরিত হয়ে উঠেছে রাজশাহী বিভাগীয় বইমেলা। শুক্রবার সমাপনী টানতে যাওয়া এই মেলা এখন বইপ্রেমীদের পদচারণায় ভরপুর। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে মেলা প্রাঙ্গণে বই কেনার নতুন উৎসব শুরু হয়েছে।


বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহী কালেক্টরেট মাঠে গিয়ে দেখা যায় পাঠকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বন্ধুদের সাথে দল বেঁধে মেলায় আসছেন। এক স্টল থেকে অন্য স্টলে ঘুরে দেখছেন নতুন বই, উল্টেপাল্টে দেখছেন পছন্দের লেখকদের রচনা। কেউ কিনছেন সায়েন্স ফিকশন বা থ্রিলার, আবার কারও হাতে স্থান পাচ্ছে ক্ল্যাসিক সাহিত্য কিংবা সমকালীন উপন্যাস।


মেলায় আসা হাই স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসিন তানসিম জানায়, শুক্রবারই তো মেলা শেষ, তাই সময় নষ্ট না করে আজই বন্ধুদের নিয়ে চলে এসেছি। কয়েকটা বই আগে থেকেই পছন্দ করা ছিল, সেগুলো সংগ্রহ করলাম। বইমেলার এমন চমৎকার পরিবেশ ছেড়ে বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে করে না।


শেষ মুহূর্তের এই বিক্রি ও পাঠকদের আগ্রহ নিয়ে আশাবাদী প্রকাশনীগুলোর বিক্রয় প্রতিনিধিরাও। মেলায় অংশ নেওয়া এক প্রকাশনীর প্রতিনিধি বলেন, প্রথম কয়েক দিন পাঠক কিছুটা কম থাকলেও এখন মেলা ভালোই জমে উঠেছে। বিক্রিও বেশ বাড়ছে। ছুটির আমেজে শেষ দুই দিনে বিক্রি আরও ভালো হবে বলে আমরা আশা করছি।


আগামী শুক্রবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে রাজশাহী কালেক্টরেট মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়া এই বিভাগীয় বইমেলা।


সন্তানকে নিয়ে মেলায় আসা অভিভাবক সালমা খাতুন বলেন, আজকালকার বাচ্চারা তো মুঠোফোনেই বেশি সময় কাটায়। সেইজন্য ওদেরকে মেলার এমন সুন্দর পরিবেশে এসে বই ছুঁয়ে দেখাচ্ছি, একটু পড়ছে যেন আগ্রহ আসে। মেয়ে তার পছন্দের দুটো গল্পের বই নিয়েছে, এতে ওর পড়ার অভ্যাসটা অন্তত তৈরি হবে।


সহপাঠীদের সঙ্গে শাড়ি পরে মেলায় আসা কলেজ শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার বলেন, মেলা শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাই সব বান্ধবীরা মিলে সুন্দর করে শাড়ি পরে ঘুরতে এসেছি। বই কেনার পাশাপাশি ছবি তোলা আর আড্ডায় চমৎকার একটা বিকেল কাটালাম।


একপি প্রকাশনীর বই বিক্রেতা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মেলার শুরু দুই-তিনদিন বিক্রি ছিল না। মেলার আর মাত্র দুদিন পরেই শেষ হবে । শেষ সময়ে মানুষের উপস্থিতি কিছুটা বেড়েছে। বই বিক্রির পরিমাণও বেড়েছে বাড়ছে। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী বই বিক্রি হয়নি। আশা করি, আগামী দুই দিন মেলায় মানুষের উপস্থিতি আরও বাড়বে। বই বিক্রিও বাড়বে।