বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬

কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কাজে লাগানোর সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে

সোনার দেশ ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ১০:৫৬ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ১০:৫৬ অপরাহ্ন
কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কাজে লাগানোর সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে

সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পরিকল্পনা কই?

জনসংখ্যা দেশের জন্য আশির্বাদ না বোঝা? সঠিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং উন্নত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারলে জনসংখ্যা আশির্বাদ হতে পারে। এই দুইয়ের ঘাটতি থাকলে তা শুধুই বোঝাই নয়- বিপর্যয় রকমের বোঝা হতে পারে। 


উন্নত দেশগুলোতে কট্টর জন্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং স্বেচ্ছা-প্রণোদিত জন্মনিয়ন্ত্রণ প্রবণতার ফলে জন্মহার নিম্নমুখি হয়েছে। এই পরিস্থিতি দেশগুলোর জন্য নানামুখি ঝুঁকিও তৈরি করেছে। ওইসব দেশে ক্রমেই ক্রমক্ষম মানুষের সংখ্যা কমছে এবং প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিন, জাপান, রাশিয়া প্রভৃতি দেশগুলো এখন জন্মহার বৃদ্ধির জন্য দম্পতিদের উৎসাহ ও প্রণোদনা দিচ্ছে। 


সক্ষম জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ এখনও সুবর্ণ রেখার ওপর দিয়েই চলছে। কিন্তু বাংলাদেশ সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে নি। অবশ্য এর নানাবিধ কারণ রয়েছে। এরমধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতাই প্রধান কারণ। এই অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতিকে ক্রম-গতিশীল করা যায় নি। কর্মক্ষম মানুষদের কম্য-উদ্যোগি করেও তোলা যায় নি। সক্ষম জনসংখ্যা যখন কর্মহীন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে, তখন তাদের কাছ থেকে উদ্ভাবনি চিন্তা প্রত্যাশা করা কঠিনই হয়। হতাশা-বঞ্চনা-অবহেলায় দেশের কর্মক্ষম অসংখ্য মানুষ লাইনচ্যূত হচ্ছে- তারা সমাজের বোঝা হিসেবেই গন্য হচ্ছে। এরফলে সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে, অপরাধ প্রবণতাও বাড়ছে। 


৩ নভেম্বর প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক নতুন প্রতিবেদনে  উল্লেখ করা হয়েছে, জনসংখ্যার বয়স কাঠামোর পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের সামনে অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগানোর সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। আগামী ২০৪৫ সাল পর্যন্ত দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত বাড়বে। এরপর এই হার কমতে শুরু করবে। অর্থাৎ জনসংখ্যার এই সুবিধা কাজে লাগাতে বাংলাদেশের হাতে সময় রয়েছে আর মাত্র দুই দশক। এই সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণদের দক্ষতা বাড়ানো এবং নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে না পারলে সম্ভাব্য জনমিতিক সুফল হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেইলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৪৯ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া বয়স্ক জনসংখ্যাপ্রধান অঞ্চলে পরিণত হবে। তখন এ অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার বেশি। বাংলাদেশে এই অবস্থায় পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় ২০৫১ সাল। অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের হাতে জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য কিছুটা বেশি সময় থাকলেও কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে কাঠামোগত দুর্বলতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।


এই যে সম্ভাবনা- তার পরিণতি কী? এর উত্তরটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় রাজনীতিতে নূন্যতম সংহতি বা সহমত সৃষ্টি ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাবে না। এটা অবশ্যই রাজনীতিকদের ভাবনা ও নেতৃত্বের বিষয়। তাদের সুবোধ-সম্মত ভাবনাগুলো দেশের মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করবে, উদ্ভাবনি শক্তির অধিকারী করে তুলবে- এটাই প্রত্যাশিত। এর ব্যত্যয় হলে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠিও বোঝা হয়ে উঠবে।