বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ০৫, ২০২৬

গাজার অঙ্গ হারানো ১১৩৪ শিশুকে বিদেশে যেতে দিচ্ছে না ইসরায়েল

সোনার দেশ ডেস্ক ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ১২:০৪ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ১২:০৪ অপরাহ্ন
গাজার অঙ্গ হারানো ১১৩৪ শিশুকে বিদেশে যেতে দিচ্ছে না ইসরায়েল
ছবি: আনাদোলু

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অঙ্গহারা শিশুদের বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল। সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ রাখা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে শত শত শিশু বিশেষায়িত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জেনেভাভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর।


কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গতকাল বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ১ হাজার ১৩৪টি শিশু অঙ্গহানির শিকার হয়েছে। তবে এসব শিশুর মধ্যে খুব কমসংখ্যকই প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসেবা পাচ্ছে।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত গাজায় অঙ্গহানির শিকার ২ হাজার ৩০০ জনকে চিকিৎসার জন্য মূল্যায়ন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ই রয়েছেন। তবে এদের মাত্র ৫০০ জন স্থায়ী কৃত্রিম অঙ্গ পেয়েছেন, যা মোট সংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও কম।


ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর জানায়, বর্তমানে গাজায় মাত্র আটজন স্বীকৃত কৃত্রিম অঙ্গ ও অর্থোটিকস বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি, সংযোজন, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোর সমন্বয় করার জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জামও নেই উপত্যকাটিতে।


সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও উপযুক্ত শিক্ষা থেকে শিশুদের বঞ্চিত রাখলে তাদের বর্তমান শারীরিক ক্ষতি আজীবন ভোগান্তিতে পরিণত হতে পারে। চিকিৎসার ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের অভাব এবং শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃত্রিম অঙ্গ পরিবর্তন বা সমন্বয় না করা হলে ভবিষ্যতে আরও শারীরিক জটিলতা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং চলাফেরায় প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে।


প্রতিবেদনে ৩৬ বছর বয়সী ফিদা আহমদ আল-শায়েরের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি সংস্থাটিকে জানান, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ছোড়া একটি আর্টিলারি গোলা তাঁর ১১ বছর বয়সী ছেলের কাছাকাছি স্থানে আঘাত হানলে শিশুটি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ছেলেটির বিদেশে একাধিক অস্ত্রোপচার এবং একটি কৃত্রিম হাত প্রয়োজন হলেও সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ থাকায় তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।


ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলে ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর বলেছে, কোনো জনগোষ্ঠীর সম্পূর্ণ বা আংশিক শারীরিক ধ্বংস সাধনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাদের জীবনযাপনের এমন পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেওয়া, যা তাদের ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়, তা গণহত্যা সনদের (জেনোসাইড কনভেনশন) ২ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লিখিত কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।


সংস্থাটির ভাষ্য, শিশুদের অঙ্গহানি এবং তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পথে বাধা সৃষ্টি করা এই ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডেরই অংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাজায় কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে ইসরায়েলি বিধিনিষেধ রয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির কাজে নিয়োজিত বিশেষায়িত দলগুলোর গাজায় প্রবেশের জন্যও অনুমতি প্রয়োজন। এসব দলের স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা থাকলেও প্রবেশানুমতির বাধার কারণে সেই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।


ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটরের মতে, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে বাধা এবং বিশেষজ্ঞ দলগুলোর প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা গাজায় অঙ্গহারা শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও কঠিন করে তুলছে। ফলে এসব শিশুর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, কৃত্রিম অঙ্গের ব্যবহার এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়ছে।


তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা অনলাইন