শুক্রবার, নভেম্বর ০৬, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ

সোনার দেশ ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ১০:৪৯ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ১০:৪৯ অপরাহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ

নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই


চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সরকারি হিসাবেই মৃত্যু ১৫, আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। শয্যা না পেয়ে রোগীদের থাকতে হচ্ছে মেঝে ও বারান্দায়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক, শহরের প্রতি তিনটি বাড়ির একটিতে পাওয়া গেছে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা। এই চিত্র সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান উদ্যোগের সীমাবদ্ধতাই তুলে ধরছে।


রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) জরিপে ১৫০টি বাড়ির মধ্যে ৫৪টিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ মশার প্রজননস্থল ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের বসতবাড়িতেও। অথচ ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রথম শর্তই হলো এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস করা। শুধু ফগার মেশিনে ওষুধ ছিটিয়ে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। জমে থাকা পানিতে লার্ভা ধ্বংস না করলে নতুন মশার জন্ম বন্ধ হবে না। তাই বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন ও নিয়মিত লার্ভা নিধনে জোর দিতে হবে।


অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা ও দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। পৌর কর্তৃপক্ষ সমস্যাগুলো স্বীকার করলেও দীর্ঘদিনেও কেন কার্যকর সমাধান হয়নি, তার জবাবদিহি প্রয়োজন। বিশেষ টিম গঠন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ঘোষণা নয়, মাঠপর্যায়ে কাজের ফল দেখতে চায় মানুষ। কোন এলাকায় কতটি প্রজননস্থল ধ্বংস করা হলো, তার হিসাবও নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে।


চিকিৎসাসেবার দুরবস্থাও উদ্বেগজনক। ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে রোগীদের জায়গা হচ্ছে মেঝে ও বারান্দায়। চিকিৎসক-নার্সরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। এ অবস্থায় অতিরিক্ত শয্যা, জনবল, পরীক্ষার সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করা জরুরি। জটিল রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থাও শক্তিশালী করতে হবে।


মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও স্বচ্ছতা দরকার। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে ডেঙ্গুতে ১৫ জনের মৃত্যু হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উপসর্গ নিয়ে আরও অন্তত ১০ জন মারা গেছেন। এসব মৃত্যুর কারণ যথাযথভাবে যাচাই করে প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করতে হবে। সঠিক তথ্য ছাড়া পরিস্থিতি মোকাবিলার কার্যকর পরিকল্পনা সম্ভব নয়।


ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন, পৌরসভা, স্বাস্থ্য বিভাগ ও নাগরিক—সবার দায়িত্ব রয়েছে। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পানির ট্যাংক ও পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানি পরিষ্কারে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। অন্যদিকে প্রশাসনকে ওয়ার্ডভিত্তিক অভিযান, নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।


চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিস্থিতি আর আশ্বাসের অপেক্ষায় থাকতে পারে না। লোকদেখানো অভিযান নয়, প্রয়োজন মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত উদ্যোগ। ডেঙ্গুতে আর কোনো প্রাণহানি কাম্য নয়। মানুষের জীবন রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।