শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

নগরীতে ভরাট করা পুকুর পুনঃখনন করছে প্রশাসন

WP Import ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৩৬ অপরাহ্ন
WP Import ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৩৬ অপরাহ্ন
নগরীতে ভরাট করা পুকুর পুনঃখনন করছে প্রশাসন
নগরীতে ভরাট করা পুকুর পুনঃখনন করছে প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী মহানগরীতে ভরাট হয়ে যাওয়া একটি পুকুর পুনঃখনন শুরু করেছে প্রশাসন। মহানগরীর মোল্লাপাড়া মৌজায় ৬৩ শতাংশ আয়তনের এ পুকুরটি কয়েকদিন ধরে ভরাট চলছিল। ইতোমধ্যে পুকুরটির সিংহভাগ ভরাট করে ফেলা হয়।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখানে অভিযানে যান। তার আগেই পুকুর ভরাটের সঙ্গে জড়িতরা পালিয়ে যায়। অভিযানে নিজেই গিয়েছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। তিনি জানান, সিটি করপোরেশন এলাকায় পুকুর ভরাট নিষিদ্ধ হলেও যারা এই কাজটি করছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পুনঃখননের খরচ পুকুর খেকোদের কাছ থেকে আদায় করা হবে বলেও জানান তিনি।

অভিযানস্থলে বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও পরিবেশ অধিদপ্তনসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে গিয়ে বিভাগীয় কমিশনার পুকুরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। পরে খননযন্ত্র দিয়ে ভরাট করা মাটি অপসারণের কাজ শুরু হয়। পুনঃখনন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পুকুর এলাকায় পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
‘ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে, পুনঃখননের খরচও আদায় করা হবে’ উল্লেখ্য করে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ বলেন,“সিটি করপোরেশন এলাকায় পুকুর ভরাট নিষিদ্ধ। খবর পাওয়ামাত্রই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। পুকুরটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজে যে ব্যয় হবে, তা ভরাটকারীদের কাছ থেকেই আদায় করা হবে। যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে সিটি করপোরেশন এলাকায় যেকোনো পুকুর ভরাটের চেষ্টা চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুকুরটির মালিক খাইরুল ইসলাম খোকন ও মাহমুদুল হাসান। তবে ভরাট কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক দলের নেতা। গত শুক্রবার স্থানীয়রা বিষয়টি বোয়ালিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেনকে অবহিত করলে তিনি গিয়ে ভরাটকারীদের সতর্ক করেন। কিন্তু শনিবার থেকে পুনরায় পুরোদমে ভরাট কাজ শুরু হয়। পরে স্থানীয়রা বিভাগীয় কমিশনারকে জানানোর পর তিনি সরাসরি অভিযানে যান।
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাছমিনা খাতুন বলেন,“আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাইনি। জমির মালিকদের বিরুদ্ধেও নিয়মিত মামলা করা হবে। এরপর থেকে কেউ পুকুর ভরাট করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযানে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহিনুল হাসান, পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালক তাছমিনা খাতুন, সহকারী পরিচালক মো. কবির হোসেন, রাসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন, আরডিএর নগর পরিকল্পক মো. রাহেনুল ইসলাম রনী, পবার ইউএনও আরাফাত আমান আজিজ, বোয়ালিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন ও জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার এসএম রকিবুল হাসান।

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছি। সিটি করপোরেশন এলাকায় পুকুর ভরাট করা নিষিদ্ধ। তাই এ পুকুরটা পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। এখানে যে ব্যয় হবে, সেটা আমরা পুকুর ভরাটকারীদের কাছ থেকে আদায় করব। এই পুকুর ভরাটের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় আর কোনো পুকুর ভরাট হবে না। আমরা খবর পেলেই বন্ধ করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনব।

পরিবেশ অধিদফতরের বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক তাছমিনা খাতুন বলেন, এই পুকুর ভরাটের খবর পেয়েই বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। আমরা স্পটে এসে কাউকে পাইনি। তারপরও যাদের নামে এ জমি আছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত মামলা করব। এরপর থেকে কেউ কোন পুকুর ভরাট করতে পারবে না।
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ ২০১৪ সালে হাইকোর্টে রিট করে। তখন বোয়ালিয়া ভূমি কার্যালয় গণনা করে নগরে ৯৫২টি পুকুরের অস্তিত্ব পায়। ২০২২ সালের ৮ আগস্ট হাইকোর্ট এই পুকুরগুলো সংরক্ষণসহ কয়েকটি নির্দেশনা দেন। রাজশাহী মহানগরীতে আর কোনো পুকুর যেন ভরাট না হয়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়।

পাশাপাশি ভরাট হওয়া পুকুরগুলো পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনারও নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। সিটি মেয়র, পরিবেশ অধিদফতর, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারকে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। কিন্তু নির্দেশনার পরও নগরের বহু পুকুর ভরাট হয়েছে। দীর্ঘ সময়েও একটি পুকুরও পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরে আসেনি। চলতি বছরের মার্চে ঘোষপাড়া মোড়ের ‘জোড়া পুকুর’-এর আংশিক উদ্ধার করা হয় মাত্র।