শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

টাইফয়েড টিকা কার্যক্রমে রাজশাহী বিভাগে এগিয়ে

WP Import ২০ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৫২ পূর্বাহ্ন
WP Import ২০ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৫২ পূর্বাহ্ন
টাইফয়েড টিকা কার্যক্রমে রাজশাহী বিভাগে এগিয়ে
টাইফয়েড টিকা কার্যক্রমে রাজশাহী বিভাগে এগিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী বিভাগে ৯৯ দশমিক ২৯ শতাংশ শিশু ও শিক্ষার্থী টাইফয়েড টিকা নিয়েছে। মাসব্যাপি শেষ হওয়া ক্যাম্পেইনে সারা দেশের মধ্যে রাজশাহী বিভাগ সবার চাইতে এগিয়ে। এর আগে ১২ অক্টোরর থেকে এই টিকা দেওয়া শুরু হয়। শেষ হয় ১৩ নভেম্বর। তবে এই টিকা নিয়ে শিশুর কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানা গেছে।

১২ অক্টোবর থেকে স্কুল পর্যায়ে শুরু হয়। শেষ হয় ৩০ অক্টোবর। এরপর শুরু কমিউনিটির শিশুদের মাঝে টিকা দেওয়া। তবে এই টিকা প্রদানে সবচেয়ে এগিয়ে জয়পুরহাট ও পাবনা জেলা। .
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দেওয়া তথ্যমতে, পাবনা জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে।১০০ দশমিক ৩ শতাংশ টিকা দেওয়া হয়েছে। এ জেলায় স্কুল ও কমিউনিটি মিলে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৮০৯ জন। টিকা দেওয়া হয়েছে ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৩০ জন শিশু ও শিক্ষার্থীকে। এরপর আছে জয়পুরহাট জেলা। এই জেলাতে টিকা দেওয়া হয়েছে ১০০ দশমিক ২ শতাংশ শিশু ও শিক্ষার্থী। এই জেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ১৭৭ জন। টিকা দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ২০১ জন শিশু ও শিক্ষার্থীকে।

তৃতীয় অবস্থানে আছে সিরাজগঞ্জ জেলা। এই জেলায় টিকা দেওয়া হয়েছে ১০ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৫ শিশু ও শিক্ষার্থীকে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩৮ জন। অর্জন হয়েছে ৯৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এরপর আছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৫৬ জন। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে ৯৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। টিকা দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৭১ জন শিশু ও শিক্ষার্থীকে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পর আছে রাজশাহী জেলা। তবে মাত্র ১ শতাংশ কম নিয়ে। এ জেলায় টিকা দেওয়া হয়েছে ৯৯ দশমিক ১২ শতাংশ। রাজশাহী জেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১২৩ শিশু শিক্ষার্থী। দেওয়া হয়েছে ৫ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৯ জনকে।

বগুড়া জেলাতে টিকা দেওয়া হয়েছে ৯৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। এই জেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ লাখ ৪৮ হাজার ৩৭৬। টিকা দেওয়া হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার ১৮০ জন শিশু ও শিক্ষার্থীকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় টিকা দেওয়া হয়েছে ৯৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৯৭ হাজার ১৫৩। দেওয়া হয়েছে ৪ লাখ ৯১ হাজার ৩৬১ জনকে। নাটোর জেলায় টিকা দেওয়া হয়েছে ৯৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ২৯ হাজার ৮৮২ জন। দেওয়া হয়েছে ৪ লাখ ২৪ হাজার ৬৬১ জন। সবশেষ নওগাঁ জেলাতে টিকা দেওয়া হয়েছে ৯৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ জেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৭৯৫। দেওয়া হয়েছে ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৫২৭।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, দেশে টাইফয়েডের টিকার এটাই প্রথম ক্যাম্পেইন। টিকাটি তৈরি করেছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। সরকার এই টিকা পেয়েছে টিকাবিষয়ক আন্তর্জাতিক মঞ্চ গ্যাভির কাছ থেকে। টিকাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত। নেপাল, পাকিস্তানসহ আরও আটটি দেশে এই টিকা দেওয়া হয়েছে। এই টিকার বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কোনো উদাহরণ নেই। টাইফয়েড সারাতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। টাইফয়েড কমে এলে দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমে আসবে। তবে টিকা নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর কিছু শোনা যায়নি।