রাজশাহীতে প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি, পাঠাদান না হলেও স্কুলে উপস্থিত ছিল শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও তিন দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকরা। রাজশাহীতেও এই কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোতে কর্মবিরতি চললেও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষার্থীরা। তবে সেভাবে হয়নি পাঠাদান।
দশম গ্রেডে বেতন-ভাতাসহ তিন দাবিতে শনিবার (৮ নভেম্বর) থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকরা। অবস্থান কর্মসূচির প্রথম দিনে শাহবাগে ‘কলম সমর্পণ’ কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার ঘটনায় সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেয় প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ।
হামলার প্রতিবাদ ও তিন দফা দাবি আদায়ে রোববার (৯ নভেম্বর) থেকে জেলার মোট এক হাজার ৫৮টি বিদ্যালয়ে এই কর্মবিরতি চলছে। সামনে বার্ষিক পরীক্ষার আগে শিক্ষকদের এ আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শিক্ষার্থীরা বলে মনে করছেন অভিভাবকরা। তবে শিক্ষকরা বলছেন, আমরা শুধু কর্মবিরতি পালন করছি। নিয়মিত ক্লাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়া দেখিয়ে দিয়ে আসা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক সমাবেশ, ক্লাসে হাজিরা নেওয়া হয়েছে। যে সকল শিক্ষার্থী আসেনি তাদেরও খোঁজ নেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী নগরীর ভদ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হয়ে প্রাত্যহিক সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। প্রাত্যহিক সমাবেশ শেষে শ্রেণিকক্ষেও যেতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। নগরীর গৌরহাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সহকারি শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ছিলেন। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, শিক্ষার্থীদের পড়া না দেখিয়ে দিলে তারা পিছিয়ে যাবে। সামনেই সমাপনী পরীক্ষা। সেজন্য আমরা কর্মবিরতির পালনের ফাঁকে তাদের হাতের কিছু কাজ দিচ্ছি। একই অবস্থা দেখা গেছে নগরীর অন্য স্কুলগুলোতে। তবে কয়েকটি স্কুলে ক্লাস নিতেও দেখা গেছে শিক্ষকদের।
রাজশাহী নগরীর সুলতানাবাদ এলাকার কৃষ্ণকান্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষকরা বসে ছিলেন। শিক্ষার্থীরা হাতের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। শিক্ষার্থীরা জানালেন, ম্যাডামরা ক্লাসে এসে হাতের কাজ দিয়ে গেছেন। মাঝেমধ্যে এসে দেখে যাচ্ছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফাহিমা ইসলাম জানান, শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। তবে শিক্ষার্থীদের পড়াও বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারা পিছিয়ে না পড়ে সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।
রাণীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হেলেনা আক্তার বলেন, সহকারি শিক্ষকরা আংশিকভাবে ক্লাস পরিচালনা করায় তার স্কুলে ধর্মঘটের খুব একটা প্রভাব পড়েনি। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক সমিতির রাজশাহী মহানগর সদস্য সচিব সামাউন সরকার বলেন, ঢাকায় যেভাবে আমাদের শিক্ষকদের ওপর হামলা করা হয়েছে, তাতে আমরা শিক্ষক সমাজ ক্ষুব্ধ। আমাদের অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা রক্তাক্ত হয়েছেন, অনেকের হাত-পায়ে বুলেটের স্পিøন্টার বিদ্ধ হয়েছে। তারা হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন। আমাদের এই যৌক্তিক দাবি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মবিরতি চলবে। তবে শিক্ষার্থীরা আমাদের এই কর্মবিরতির কারণে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেদিকে আমরা লক্ষ্য রাখছি।
রাজশাহীর গ্রামাঞ্চলেও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে রয়েছেন। রাজশাহী জেলায় ১ হাজার ৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। সব বিদ্যালয়ে এই কর্মবিরতি চলছে। রাজশাহী জেলাতে কর্মরত আছেন ৫ হাজার ৬৬৯ সহকারি শিক্ষক। এর মধ্যে নারী শিক্ষক ৩ হাজার ৯৩৪ ও পুরুষ শিক্ষক ১ হাজার ৭৩৫ জন রয়েছে।