পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, ডিপার্টমেন্টেই আত্মহত্যার চেষ্টা রাবি শিক্ষার্থীর

হামলার চেষ্টা ও হুমকির দেওয়ার অভিযোগে তাসনিন জাহান মিমের সহপাঠীরা তার স্বামী সহকারী অধ্যাপক নজিল ভূইয়ার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে। ছবি: সংগৃহীত
রাবি প্রতিবেদক:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী তাসনিন জাহান মিম সহপাঠীদের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ এনে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনে তাঁর স্বামী এবং ওই বিভাগের শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক তানজিল ভূইয়ার চেম্বারে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।
বিষয়টি বুঝতে পেরে তানজিল ভূইয়া কয়েকজনকে নিয়ে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন।
তানজিল ভূইয়া বলেন, “সকালে কিছু শিক্ষার্থী আমার স্ত্রীকে বয়কটের দাবিতে চেয়ারম্যান স্যারের কাছে আবেদন করতে যায়। এ সময় আমার স্ত্রী আমার চেম্বারে বসে ভিডিও কল করেন। কলের সময় দেখি তিনি ফ্যানের সঙ্গে ওড়না বেঁধে ঝুলে আছেন। আমি দ্রুত গিয়ে চেম্বারের দরজা লাথি মেরে ভেঙে তাকে উদ্ধার করি। আর দুই মিনিট দেরি হলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম না।”
সহপাঠীদের পাল্টা অভিযোগ
এ ঘটনার পর বিকালে মিমের সহপাঠীরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে তানজিল ভূইয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা ও হুমকির দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কামরুন নাহার অনিকা লিখিত বক্তব্যে বলেন, “গত বছর তানজিল ভূইয়া ও শিক্ষার্থী তাসনিন জাহান মিমের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বিয়ের গুঞ্জন ওঠে। প্রথমে তারা বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে নিজেরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের সত্যতা স্বীকার করেন।”
তিনি বলেন, “পরে মিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন এবং ক্লাস চলাকালে এক শিক্ষককে খাতা ছুড়ে মারেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা তাকে বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বিভাগে অভিযোগ জানাতে গেলে, তানজিল ভূইয়া আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন এবং মামলা করার হুমকি দেন।”
সংবাদ সম্মেলনকারী শিক্ষার্থীরা দুই কর্মদিবসের মধ্যে ওই শিক্ষকের বহিষ্কারের দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তানজিল ভুঁইয়া বলেন, “উনি (বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজু সরদার) কিছু শিক্ষার্থীকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে হেনস্তা করার চেষ্টা করছেন। যে সময় আমার স্ত্রী অসুস্থ ছিলেন, সেই সময়ের একটি ঘটনাকে সামনে এনে তিনি এটি করছেন। আমার স্ত্রী যে সেই সময় অসুস্থ ছিলেন এর প্রমাণ আমার কাছে আছে। আমি ঢাকায় কয়েক জায়গায় চিকিৎসাও করিয়েছি।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে সহকারী অধ্যাপক সাজু সরদারের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
মিমের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ
সোমবার সহকারী অধ্যাপক সাজু সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে একটি অভিযোগপত্র দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি বলেছেন, গত ১৫ মে বিভাগের ৫১৮ নম্বর কক্ষে রোল কলের সময় শিক্ষার্থী তাসনিন জাহান মিম হঠাৎ করে তার দিকে খাতা ছুড়ে মারেন। অপমান করার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এটি করা হয়েছিল। তবে শিক্ষার্থী তাসনিন জাহান মিম বলেন, “ঘটনার সময় আমার মানসিক সমস্যা ছিল। দুই-তিন মাস আগে এ ঘটনা ঘটে। মানসিক অস্থিরতার কারণে এমন আচরণ করেছিলাম, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল না। এখন এতদিন পর অভিযোগ করায় মনে হচ্ছে, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার মানহানি করতে চাইছেন।”