রাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু, আন্দোলনের মুখে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, তিন ইন্সট্রাক্টর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে সায়মা ডুবে গেল, কেউ খেয়াল করলো না!

রাবি প্রতিবেদক:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী মোছা. সাইমা হোসেনের সুইমিংপুলে ডুবে মৃত্যুর প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন কমিটির আহ্বায়ক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান।
এর আগে, দুপুর ১২টা থেকে প্রশাসন ভবনের সামনে প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, সায়মা একজন শিক্ষার্থীর সাথে ৪টা ১২ মিনিটে সুইমিংপুলের দক্ষিণ পূর্ব কোণা থেকে নামে। তারপর সাতার কাটতে কাটতে উত্তর দিকে চলে আসে। তারপর ৪টা ১২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে সে ব্যাকস্টোক দিয়ে সাঁতার শুরু করে। এসময় সায়মা উত্তর দিকের প্রথম লেনেই দেওয়াল বরাবর ছিল। তার পাশেই আরেকটি মেয়ে ছিল যার নাম সম্ভবত তানজিলা। যে একটু দ্রুত আগাচ্ছিল। এর মিনিট খানেক পরেই সায়মা সমস্যা অনুভব করা শুরু করে। সে আগাতে পারছিল না, একবার ডুব দিচ্ছিল আবার উঠছিল।
সায়মার পাশের মেয়েটি ততক্ষণে প্রায় পশ্চিম পাশে চলে এসেছিল। এসময় দুই মেয়ে শিক্ষার্থী সাঁতারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল হাত পা নাড়িয়ে। একটু পরেই তিনজন প্রশিক্ষক চলে আসেন। দুইজন বসে শিক্ষার্থীদের সাঁতার কাটা দেখছিলো। একই সময় দুইজন শিক্ষার্থী তাদের সামনে আসলে তাদের দৃষ্টি একটু বাঁধাগ্রস্ত হয়। এসময় তারা প্রশিক্ষকের সাথে কথা বললে সায়মার সমস্যাটি তাদের নজরে আসেনি। একটু পরে সায়মা তলিয়ে গেলে সেটা কারো নজরেই পড়েনি। সায়মা যখন পানির নিচে চলে যায় তখন সেটা ৪:১৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড।
তিনি আরও বলেন, সায়মার পাশের মেয়েটি বেশ কয়েকবার এপাশ ওপাশ করে সাঁতার কাটে। এক পর্যায়ে প্রশিক্ষকরা তাকে রেস্ট করতে বলে। তারপর সে সায়মার বিষয়ে বললে সবাই তাকে বাথরূম থেকে শুরু করে এদিক সেদিক খোঁজাখুজি শুরু করে। খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে ঈশিতা নামের এক মেয়ে উত্তর দিক থেকে হেঁটে আসার সময় পানির ভিতরে একজনকে ডুবন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার করে ম্যামকে ডাকে। চিৎকার শুনে দায়িত্বশীল রুনা লায়লা ম্যাম লাফ দিয়ে পুলে নামেন এবং তাকে উঠানোর চেষ্টা করতে থাকে। পরে আমরা সুইমিংপুলের গভীরতা মেপে দেখেছি পানির গভীরতা ৭ ফুট। ম্যাম নিজেই হার্টের রোগী, তিনি সায়মা কে উঠাতে পারছিলেন না। এরপরে সেখানকার নিরাপত্তা কর্মী বাবু, পাশেই থাকা রাখাল এবং আরেকজন নারী শিক্ষার্থী মিলেও অনেক চেষ্টা করে তাকে তুলতে পারে নি। পরে বাহির থেকে এক ছেলে এসে মাথায় করে সায়মাকে পানির নিচ থেকে ঠেলে তোলে এবং উপরের লোকজন তাকে উপরে নিয়ে আসে। যখন থেকে সায়মা তলিয়ে যায় তখন থেকে উদ্ধার করা পর্যন্ত সময়ের দৈর্ঘ্য ছিল ২০ মিনিট। সেখানে দায়িত্বশীল যারা ছিলেন তারা এই ২০ মিনিট কেন খেয়াল করলো না এই প্রশ্নটা বারবার আমাদের মাথায় এসেছে।
ঘটনার সময় তিনটি হলের ইন্সট্রাক্টর ছিলেন এবং শিক্ষার্থীরাও ছিলেন। কিন্তু সায়মা ছিল মন্নুজান হলের। সেই হলে তখন পর্যন্ত কোনো প্রশিক্ষক কে অ্যাসাইন করা হয়নি। সায়মা আসলে খুব উদ্যমি,সাহসী এবং হাসিখুশি মেয়ে। সে নিজে থেকেই ওখানে সুইম করতে গিয়েছিল। এটা তার দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিন ছিল। এর আগে প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কয়েক দফা আন্দোলন করেন। আজও সকাল থেকে তাদের আন্দোলন অব্যাহত ছিল।