শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

‘দুই মেয়েকে নিয়ে আমি অথৈ সাগরে’

WP Import ২৮ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৩৮ অপরাহ্ন
WP Import ২৮ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৩৮ অপরাহ্ন
‘দুই মেয়েকে নিয়ে আমি অথৈ সাগরে’
‘দুই মেয়েকে নিয়ে আমি অথৈ সাগরে’

নিজস্ব প্রতিবেদক ও বাঘা প্রতিনিধি:


‘আমার ছোট ছোট দুই মেয়ে। তাদের নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব? তাদের কিভাবে বড় করব? তাদের কি খাওয়াব? ছোট দুই মেয়েকে নিয়ে আমি অথৈ সাগরে পড়ে গেলাম।’ কান্না জড়িত কষ্ঠে কথা বলছিলেন, নিহত নাজমুলের স্ত্রী শারমিন বেগম। তিনি ঠিক মত কথা বলতে পারছেন না। শুধু ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করছেন।
নিহত নাজমুলের দুই মেয়ে। একজনের নাম জান্নাতি (৩) জামেলা খাতুন (২)। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে নিহত নাজমুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল স্ত্রী শারমিন বেগম সন্তানকে জড়িয়ে আহাজারি করছেন। পাশে স্বজনরাও কান্না করছেন।

এরআগে সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে পদ্মা নদীর হবিরচরে গোলাগুলির ঘটনায় আমান মন্ডল ও নাজমুল হোসেনের মৃত্যু হয়। পরের দিন মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) হবিরচর থেকে লিটন নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নাজমুলের বাড়ির পাশের জুয়েলের মুদির দোকানের বাঁশের মাচায় বসে নিজেদের মধ্যে কথা বলাবলি করছেন স্থানীয়রা। তার একটু দূরে আমানের বাড়ি। সেই বাড়ি থেকেও আসছে কান্নার শব্দ। জুয়েলের মুদির দোকানে কথা হয় জলিল সরদারের ছেলে মিঠু সরদারের সঙ্গে। তিনি সোমবার (২৭ অক্টোবর) চরে গোলাগুলির সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন।

গোলাগুলির মুহূর্তে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন- ‘তখন ১১টা থেকে সোয়া ১১টা হবে। কাঁকন বাহিনী স্টিডবোটে করে আসে। স্টিডবোটে থেকেই অতর্কিত গুলি করতে শুরু করে। ওরা গুলি করছে, আমরা গুলির ভয়ে শুয়ে আছি। তারা আটজন ছিল; কিছু না হলেও দুই ঘণ্টা গুলি করেছে। তারা দুইটি স্পিডবোটে এসেছিল। একটা লোক নামিয়ে চলে যায়। পওে আবার ফিরে আসে। আমাদের কাছে অস্ত্র নাই, মেশিন নাই, ঢাল নাই।’
তিনি আরও বলেন, যখন তারা গুলি চালাচ্ছিল তখন আমি শুয়ে পড়ি। তাদের আটজনের হাতে অস্ত্র ছিল। তিনটা লোক আমি চিনেছি- চাকলাইয়ের ময়না, সাগর, ফিলিপ নগরের বুরবক। ওদের কাছে বড় বড় অস্ত্র। মোবাইল বের করতে পারিনি। কি করে ফোন করব। জান বাঁচানই ফরজ কাজ। আমরা তো সাধারণ লোক। আমরা মাঠ দেখতে গিয়েছি। আমারে এই মাঠে দেড়শ বিঘা জমি আছে। জোর করি খড় কেনে নেয় কাঁকন বাহিনীর লোকজনেরা।

এসময় স্থানীয়রা জানান, ১৭ বছর আগে হবির চরের নীচ খানপুর এলাকায় ৩০ থেকে ৩৫ পরিবার বসবাস করত। নদী ভাঙনের কারণে তারা ভিটা ছাড়া হয়ে যায়। এরপর তারা বাঘার চর নীচ খানপুর এলাকায় বসবাস শুরু করে। তাদের দাবি-তাদের ওই চরে প্রায় ৯০০ থেকে ১ হাজার বিঘা জমি রয়েছে। সেগুলোর দলিলও তাদের বাবা-দাদার নামে রয়েছে। তারা সেখানে বিভিন্ন চাষাবাদ করে আসছিল। বিগত কয়েক বছর ধরে কাঁকন বাহিনীর লোকজনের কারণে জমির ফসল নিয়ে আসতে পারে না। ঘটনাস্থলে পুলিশের বড় বড় কর্মকর্তারা যাবেন। তাই তারা সকাল ১০ টার দিকে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

জানা গেছে- সন্ধ্যায় নিহত আমান মন্ডল ও নাজমুল হোসেনের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এসময় আহাজারিতে ভেঙে পড়ে স্বজনরা। পরে তাদের স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। এরআগে নিহত আমান ও নাজমুলের মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। আর কুষ্টিয়ার দৌলতপুর পাওয়া লিটনের মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। মামলার প্রস্তুতি প্রক্রয়াধীন।