শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

আলুর রেকর্ড দরপতন, প্রতিশ্রুত আলু সরকার কিনবে কবে?

WP Import ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৩২ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
WP Import ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৩২ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে আলুর রেকর্ড দরপতন ঘটেছে। এর ফলে আলুচাষি এবং ব্যবসায়ী উভয়েই বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ব্যবসায়ীরা উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না। খেত থেকে শুরু করে হিমাগার পর্যন্ত সর্বত্রই লোকসান গুনতে হচ্ছে। এরজন্য দায়ি করা হচ্ছে আলুর বাহুল্য উৎপাদন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাইকারি বাজারে আলুর দাম এখন কেজিপ্রতি ১০-১১ টাকা, যেখানে গত বছর ছিল ৪৫-৫৫ টাকা। স্থানীয় খুচরা বাজারে দাম ২০-২৫ টাকা, যা গত মাসের তুলনায় ৭-১০ টাকা কম। ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উৎপাদন খরচের একটি ভগ্নাংশও তুলতে পারছেন না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এবছর রাজশাহী জেলায় ৩৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ১০ লাখ ৩০ হাজার ৫১৭ মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। এটি জেলার বার্ষিক চাহিদা ১ লাখ ১৩ হাজার ১৪৫ মেট্রিক টনের তুলনায় প্রায় নয় গুণ বেশি। গত বছরের তুলনায় এবার ৩ হাজার ৫৪৫ হেক্টর বেশি জমিতে আলু চাষ হয়েছে এবং উৎপাদন বেড়েছে ৯১ হাজার ৬৯৩ মেট্রিক টন। এই অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দর পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যে জানা যায়, রাজশাহীর সচল ৩৭টি হিমাগারে এ বছর ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৯১ মেট্রিক টন আলু মজুত করা হয়। বর্তমানে ২ লাখ ৫ হাজার ১৮৬ মেট্রিক টন আলু হিমাগারে মজুত রয়েছে। বাজারে দাম এতটাই কম যে, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আলু তোলার খরচও উঠাতে পারছেন না, ফলে অনেকে মজুত আলু তুলছেন না। এই বিপুল পরিমাণের মজুদ চাষি ও ব্যবসায়ীর গলার কাটা হিসেবে দেখা দিয়েছে। অথচ নতুন আলু মৌসুম ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে সরকারের প্রতিশ্রুত আলু কেনার কার্যক্রম শুরু না হলে চাষি ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন।
২৭ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল- আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হিমাগার গেইটে কেজি প্রতি সর্বনি¤œ ২২ টাকা মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সাথে সরকারি উদ্যোগে ৫০ হাজার টন আলু ক্রয় করে হিমাগারে সংরক্ষণ করা হবে। যা পরবর্তীতে আগামী অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বাজারজাত করা হবে। সরকার স্বীকার করে নেয় যে, আলুর সাম্প্রতিক বিক্রয়মূল্য উৎপাদন খরচের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় আলুচাষিরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কিন্তু সরকারের ওই সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয় নি। যে সিদ্ধান্তের কারণে চাষি ও ব্যব্সায়ীরা আশাশি^ত হয়েছিলেন। সময় এখনো আছে, সরকার প্রতিশ্রুতিমত আলু কেনার উদ্যোগ নিলে লোকসানের কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে আলু রপ্তানির বিষয়টিকে আরো গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে হবে। অতিরিক্ত আলু উৎপাদন করার জন্য আলু চাষিদের দোষারোপ করলে চলবে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের কৃষককে সুরক্ষা দেয়ার দায়িত্ব আছে। বৃহত্তর পরিসরে বিদেশে আলুর বাজার সৃষ্টি করা গেলে কৃষকদের লোকসানের মুখে পড়তে হবে না। কৃষক কীভাবে নিরাপদ থাকবে সেটা সরকারকেই দায়িত্ব নিয়ে ভাবতে হবে।