শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

ইসরায়েলের শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন, শান্তি-সম্ভাবনা নস্যাতের উদ্যোগ

WP Import ২১ অক্টোবর ২০২৫ ১২:২২ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
WP Import ২১ অক্টোবর ২০২৫ ১২:২২ পূর্বাহ্ন

গাজার ফিলিস্তিনিরা শান্তির বার্তায় নতুন করে জীবন গড়তে প্রত্যাশায় বুক বেধেছিল কিন্তু তাদের ভয়-আতঙ্ক আর অস্বস্তির কোনো অবসান হচ্ছে না। শান্তির ঘোষণার পরও তাদের হত্যার শিকারে পরিণত হতে হচ্ছে। ইসরায়েলি বাহিনি যুদ্ধবিরিতিকে থোড়াই কেয়ার করছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর একের পর এক হামলা বজায় রেখেছে, ফিলিস্তিনিদের মরতে হচ্ছে বেঘোরে। সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরবর্তী ১০ দিনে কমপক্ষে ৯৭ ফিলিস্তিনিকে প্রাণ দিতে হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো ২৩০ জন। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।
সংবাদ তথ্য বলছে- যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনি অন্তত ৮০ বার চুক্তি ভঙ্গ করেছে। এসব কর্মকান্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। ইসরায়েলি দখলদার বাহিনি সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে, গোলা নিক্ষেপ করেছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকাগুলোতে আগুনের বলয় তৈরি করেছে। গাজা প্রশাসনের দাবি মতে, এসব হামলায় ইসরায়েলি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, দূরনিয়ন্ত্রিত টার্গেটিং ক্রেন, ড্রোন ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা গাজার যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার আহত হয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে গাজার ৮৭ শতাংশ অবকাঠামো।
ইসরায়েল- হামাস যুদ্ধবিরতির পর শান্তির আবহ তৈরি হয়েছিল। বিশ্বনেতৃবৃন্দ এই শান্তি- ঘোণণাকে ঐতিহাসিনক বলেই বিবেচনা করছেন। প্রকৃতঅর্থেই শান্তি প্রক্রিয়া ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও তাদের অধিকার সমুন্নত হবে সেটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। এ পরিকল্পনার আওতায় আবাসন, শিক্ষা, শাসনব্যবস্থা, অবকাঠামোসহ ১৮টি খাত অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে তিনটি ধাপে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে। রামাল্লায় নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক বৈঠকে ফিলিস্তিনি মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, জাতিসংঘ সংস্থার প্রধান ও বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্দেশে পশ্চিম তীরের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তাফা এ তথ্য জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এখন থেকে ১২ মাস পর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ গাজায় পূর্ণমাত্রায় প্রশাসনিকভাবে কার্যকর হবে।
২০২৫ সালের মার্চে কায়রোতে অনুষ্ঠিত আরব দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত চুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এই পুনর্গঠন পরিকল্পনা। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধ-পরবর্তী একীভূত ফিলিস্তিনি সরকার গঠন করা। এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বর্তমানে সীমান্ত নিরাপত্তা, শুল্ক ব্যবস্থা ও সমন্বিত পুলিশ ইউনিট নিয়ে প্রযুক্তিগত আলোচনা চলছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান আর্থিক সহায়তাকারী ইইউ।
এই পরিস্থিতিতে শান্তি চুক্তির বারবার লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে এক ধরনের ষড়যন্ত্রকেই বাস্তবায়ন করার পদক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছে। এটা খুবই স্পষ্ট যে, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে সহাবস্থানের সম্ভাবনা তখনই টেকসই হবে, যে মৃহূর্তে দ্বি-রাষ্ট্রের প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। এই চাহিদা শুধু ফিলিস্তিনের জনগণের নয়- বিশে^র শান্তিকামী মানুষের তেমনই চাহিদা। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের দেশে দেশে ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীনতার যৌক্তিকতাকেই তুলে ধরে। যে যৌক্তিকতা শুধুই উপেক্ষা করে চলেছে ইসরায়েল। এ ব্যাপারে শান্তি চুক্তির সাথে জড়িত বিশ্ব নেতৃত্বকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।