শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

রাজশাহী বিভাগে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হয়েছে ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী

WP Import ২১ অক্টোবর ২০২৫ ১২:০৬ পূর্বাহ্ন
WP Import ২১ অক্টোবর ২০২৫ ১২:০৬ পূর্বাহ্ন
রাজশাহী বিভাগে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হয়েছে ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী
রাজশাহী বিভাগে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হয়েছে ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক:


শিশুদের টাইফয়েড থেকে সুরক্ষিত রাখতে চলছে জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি। রাজশাহী মহানগরীসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার স্কুলগুলোতে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ। হাতে ভ্যাকসিন কার্ড, মুখে হাসি এভাবেই শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে টিকা নিচ্ছে।

রাজশাহী বিভাগে টিকা দেওয়ার হারও বেশি। রোববার (১৯ অক্টোবর) পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে বেশ আগ্রহ দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এর মধ্যে ১৬ লাখ ৪০ হাজার ৮৪০ জন শিক্ষার্থীকে এই টিকা দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা আছে ৫২ লাখ ৯১ হাজার ৭৫৪ হাজার।
এর আগে পাকিস্তান ও নেপালে শিশুদেরকে এই টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নেপালে এই টিকার কার্যকরিতা নিয়ে ২০ হাজার শিশুর মধ্যে একটি গবেষণা চালানো হয়। বিশ্বখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করে।

২০২১ সালে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, টিকাটি প্রথম বছরে ৮১ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৭৯ শতাংশ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। ‘টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি)’ নামের এই টিকা ৯ মাস বয়সী শিশু থেকে শুরু করে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত সবার জন্য নিরাপদ। টিকা দেওয়ার পর সামান্য জ্বর বা ইনজেকশনের স্থানে ব্যথা ছাড়া বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা যায়নি।
দেশে টাইফয়েডের টিকার এটাই প্রথম ক্যাম্পেইন। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, ক্যাম্পেইনের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি বা সমমান পর্যন্ত সব ছাত্রছাত্রীকে এক ডোজ করে টিকা দেওয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিকাদান চলবে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। এর বাইরেও ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সব শিশুকে এই টিকা দেওয়া হবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে। মাসব্যাপী এই টিকা প্রদান কর্মসূচি চলবে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত। জন্মসনদ নেই, এমন শিশুরাও এই টিকা পাবে।

রাজশাহী বিভাগে ১৯ হাজার ৩৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ লাখ ৪৫ হাজার ৮২৫ জন শিক্ষার্থী। এছাড়াও কমিউনিটির মাধ্যমে ১৫ হাজার ৩৫৪ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শিশুদের এই টিকা দেওয়া হবে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯ জন শিশু । এর মধ্যে স্কুল থেকে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে ১৯ লাখ ৫৩ হাজার ৪৭৫ জন। আর কমিউনিটি থেকে করা হয়েছে ৫ লাখ ৮ হাজার ৪৩ জন। এর মধ্যে স্কুলে ১৬ লাখ ৪০ হাজার ৮৪০ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে দেওয়া তথ্যে এ চিত্র দেখা গেছে। এ তথ্য রোববার (১৯ অক্টোবর) পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সালমোনেলা টাইফি নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে টাইফয়েড জ্বর হয়। এটি মারাত্মক সংক্রমণ। এই জীবাণু সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। উন্নয়নশীল দেশগুলোয় এটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এর জটিলতা এবং এ রোগের কারণে মৃত্যুর হার বেশি। এই রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। সেই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের নিশ্চয়তা এবং পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা।

টাইফয়েড টিকা রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলে। বর্তমানে বাংলাদেশে শিশুদের জন্য টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) দেওয়া হচ্ছে। এটি মাংসপেশিতে ইনজেকশন হিসেবে দিতে হয়। এটি একধরনের সাব-ইউনিট টিকা, যা ব্যাকটেরিয়ার একটি অংশকে একটি ক্যারিয়ার প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত করে তৈরি করা হয়। এ আধুনিক টিকাটি আগের টিকার তুলনায় শিশুদের মধ্যে শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা দেয়।

রাজশাহীর ডেপুটি সিভিল সার্জন মাহবুবা খাতুন বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর থেকে জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ কোটি শিশু-কিশোরকে বিনা মূল্যে এক ডোজ টিভিসি টিকা দেওয়া হচ্ছে। এই টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃত ও সুপারিশকৃত, যা এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করে। এটা কোনো ট্রায়াল ভ্যাকসিন নয়।

তিনি বলেন, অনেক অভিভাবকই এই টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে ভয় পাচ্ছেন। এই টিকা পুরোপুরি নিরাপদ এবং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি শিশু গ্রহণ করছে। টিকার কোনো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং এটি শিশুর গর্ভকালীন জটিলতা বা প্রজননক্ষমতায় কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, টাইফয়েডের টিকা অন্যান্য টিকার মতো। শিশুদের ইপিআইসহ কয়েকটি টিকা দেওয়া হয়; ওই টিকাগুলোর মতোই টাইফয়েডের টিকা। এই টিকাতে সামান্য কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। কারো জ্বর হতে পারে, কারো ব্যথা হতে পারে এবং কারো চুলকানি বাড়তে পারে। এছাড়া অন্য কোনো সমস্যা হবে না। আমাদের দেশে যেসব অভিভাবক সচেতন তারা বাচ্চাদের প্রাইভেটভাবে টিকা দিয়ে থাকেন। এটি এখন জাতীয়ভাবে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, যারা দূষিত পানি পান করে এবং দূষণের শিকার হয়; তারা টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়। সুতরাং টাইফয়েডের টিকা শিশুদের জন্য বড় একটি সুরক্ষা। টাইফয়েড হলে জীবনেরও ঝুঁকি থাকে। টাইফয়েডের টিকা দেশের জন্য মঙ্গলজনক এবং সবার নেওয়া উচিত।