শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

শাহজালারের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকান্ড, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হোক

WP Import ২০ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
WP Import ২০ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের কার্গো ভিলেজের অগ্নিকান্ড দেশজুড়েই আলোচনায় উঠে এসেছে। ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার বিষয়টি যেমন আছে, তেমনি দেশে একের পর এক অগ্নিকান্ডের ঘটনা নানা সন্দেহের কারণ হয়ে দঁড়িয়েছে। কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন, এসব অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নাশকতার সম্পর্ক আছে কী না। তবে নিরাপত্তাবেষ্ঠিত বিমান বন্দর এলাকায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা কীভাবে ঘটলো বা ঘটতে পারলো তা নিয়ে কথা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগে। খবর পেয়েই ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট রওনা হয়। আগুন ছড়াতে থাকলে ইউনিটের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের তথ্যমতে ১৩টি ফায়ার স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করেছে। পাশাপাশি কাছ থেকে আগুন নেভাতে কাজ করছে ‘রিমোট কন্ট্রোল ফায়ার ফাইটিং রোবট’। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত আনুমান এক হাজার আনসার সদস্য ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছেন। এসময় কর্তব্যরত অবস্থায় ২৫ জন আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। ২৭ ঘণ্টা পর পুরোপুরি আগুন নিভানো সম্ভব হয়েছে। কার্গো ভিলেজে অগ্নিকা-ে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। এই অগ্নিকান্ডে শুধু ব্যবসায়ীরা নন, দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থাও বড় ধরনের ধাক্কা খাবে বলে জানিয়েছেন তারা। কিছু সময়ের জন্য বিমান ওঠানামা বন্ধ থাকলেও তা আবার চালু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল দ্রুত খালাসের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
দেশজুড়ে হঠাৎ করে অগ্নিকান্ডের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গার্মেন্টস কারখানা, বিমানবন্দর, সরকারি দফতর, গুদামঘর ও শপিং কমপ্লেক্সসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় একের পর এক আগুনের ঘটনায় জনমনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। এসব অগ্নিকান্ডের বেশ কিছু ঘটনার উৎস রহস্যজনক হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে- এসব কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে আছে পরিকল্পিত নাশকতা আছে?
তবে নিছক দুর্ঘটনা কিংবা নাশকতা-কোনোটিকেই এখন উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। প্রতিটি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিমান বন্দরের নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো ব্যত্যয় ছিল কি না, সেটাও খাতিয়ে দেখা জরুরি। প্রকৃত ঘটনা দেশবাসীকে জানান দরকার। অন্যথায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাস তৈরি হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। আর ঘটনা নাশকতা হলে এর সাথে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।