শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

আন্দোলনে শিক্ষকরা, দাবি যৌক্তিক, মানতে সমস্যা কেন?

WP Import ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
WP Import ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন

২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতাসহ তিন দাবিতে আন্দোলনে রাজপথে আছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। শনিবার পর্যন্ত আন্দোলন সপ্তম দিন পূর্ণ করেছে। শেষ দিন কালো পতাকা মিছিল হয়েছে। এসময় শিক্ষকরা শিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিয়েছেন। মিছিলে শিক্ষকদের হাতে কালো পতাকা এবং মাথায় ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়ার দাবির ব্যান্ড দেখা যায়। এছাড়া ‘তুমি কে আমি কে, শিক্ষক শিক্ষক’, ‘নেবো না, নেবো না, ৫০০ টাকা নেবো না’, ‘যাবো না, যাবো না, বাড়ি ফিরে যাবো না’, ‘শিক্ষকদের এক দাবি, ২০ পার্সেন্ট ২০ পার্সেন্ট’, ‘আমাদের ন্যায্য দাবি, মানতে হবে মানতে হবে’, ‘সি আর আবরার, আর নেই দরকার’ সহ নানান স্লোগান দিতেও দেখা যায়।
শিক্ষক-কর্মচারীরা কখনো জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায়, কখনো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বা হাইকোর্টের সামনের সড়কে কর্মসূচি পালন করছেন। কয়েকদিন অবস্থান কর্মসূচির পর এখন তারা বসেছেন অনশনে। বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচির পর টানা অনশন এবং তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শিক্ষকরা। শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে অনশনে আছেন শিক্ষকরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন চায় শতাংশের হিসেবেই বাড়িভাড়ার ভাতা বাড়ানো উচিত। এ জন্য ৫০০ টাকা বাড়ানোর বিষয়ে অর্থ বিভাগের সম্মতিপত্র দিলেও সেটি কার্যকরের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক আদেশ জারি করেনি। বরং মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য চার ধরনের হার ঠিক করে তাতে কত টাকা লাগবে, তার প্রাক্কলন করে অর্থ বিভাগকে দিয়েছে। সেখান থেকে সরকারের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ বিভাগ যেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করে, তার অনুরোধ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বিলম্বিত হলে তা অনাকাক্সিক্ষত কিছু ঘটে যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করাই প্রত্যাশিত।
শিক্ষকদের জাতির মেরুদ- বলা হলেও বাস্তবিক চিত্র হলো অবহেলার। তারা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলেন। কিন্তু তাদের জীবন-জীবিকা প্রশ্নবিদ্ধ হলে তা শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক গুণগত মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেলে বেতন পেলেও তাদের বাড়ি ভাড়া ভাতা মাত্র এক হাজার টাকা। সম্প্রতি এই ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এটা কতটুকু যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মাসিক ৫০০ টাকা চিকিৎসাভাতা এবং উৎসব ভাতার বর্তমান হারও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে মোটেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
দাবির সমর্থনে সারা দেশে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি চলছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাবর্ষের শেষ সময়ে এসে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ক্ষতির মুখে পড়েছে। আর রাস্তার আন্দোলনে শিক্ষকদের যেমন কষ্ট হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষকেও ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। অথচ বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না। বাংলাদেশে সরকারি অর্থের নিকুচির ঘটনা প্রায়ই সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়। কিন্তু উন্নত জাতি গঠনে যেখানে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ দরকার সেটাই থেকে যায় অবহেলিত। আমরা টেকসই উন্নয়নের কথা বলছি বটে কিন্তু তার যথার্থ উদ্যোগ বা পদক্ষেপ স্পষ্ট নয়। আগামী প্রজন্মকে মানবসম্পদে রূপান্তরিত করতে উন্নত ও মানসম্পন্ন শিক্ষার অন্য কোনো বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই শিক্ষকদের মর্যাদা সমুন্নত করার সাথে সাথে তাদের জীবনমানের নিরাপত্তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। যে শিক্ষকরা আন্দোলনে মাঠে আছেন, অনশনে আছেন- তাদের দাবি শিগগিরই মেনে নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করবেন কর্তৃপক্ষ- এটাই প্রত্যাশিত। শিক্ষকদের দাবি তাদের অধিকার, কোনো দয়া নয়।