বেড়েছে পেঁয়াজ-মরিচ-রসুনের দাম, স্থিতিশীল সবজির
নিজস্ব প্রতিবেদক:
শীতের আগাম সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। তবে দাম এখনও চড়া আছে। সরবরাহ বাড়লে সবজির দাম কমবে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও দাম বেড়েছে পেঁয়াজ-মরিচ-রসুনের।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজি, ডাল ও ডিমের দাম উর্দ্ধমুখী। গেল সপ্তাহে মরিচের দাম ছিল কেজি প্রতি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। এ সপ্তাহে তা বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আগের সপ্তাহে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা যায় খুচরা বিক্রেতাদের। কিন্তু গতকাল কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। রসুনের দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ৭০-৮০ টাকা, আলু ১৮-২০ টাকা কেজি।
সাহেববাজারের খুচরা বিক্রেতা ইউসুফ আলী জানান, বেশি দামে কেনা। তাই কম দামে বিক্রি করা সম্ভব না। আদা, রসুনের দামও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে আদার কেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা বিক্রি হলেও তা ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৩০ থেকে ১৬০ টাকার রসুনও ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
দুর্গাপূজার ছুটিতে বন্দর বন্ধ থাকায় কাঁচা মরিচের কেজি ৩০০ টাকায় দাঁড়ায়। আগের সপ্তাহে কমে তা বিভিন্ন বাজারে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়। শুক্রবার তা বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারে দেখা যায়, তালবেগুন ২০০ থেকে ২২০ টাকা, সবুজ বেগুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা ও লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহে শিম ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও গতকাল তা ২০০ থেকে ২২০ টাকায় ঠেকে। বিক্রেতারা বলেন, বাজারে দাম বেশি। বাঁধাকপি ও ফুলকপি ৮০ টাকা পিস, পটোল, ধুন্দুল, ঢ্যাঁড়স ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ৬০ থেকে ১০০ টাকা; করলা, ঝিঙে, বরবটি, কচুরলতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ৮০ থেকে ১২০ টাকা ও টমেটো ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি হলেও নানা কোম্পানির মিনিকেট চাল কেজিপ্রতি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মজুমদার কোম্পানি, দাদা, ডায়মন্ড, হরিণ, মোজাম্মেল কোম্পানির মিনিকেট চালের দাম আরও বেশি ৮৫ টাকা, নাজিরশাইল ৯৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া আটাশ চাল ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা এবং মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিভিন্ন বাজারে মসুর ডালের দামও চড়া। আগের মতোই তা ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি, চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকা, দুই কেজি আটার প্যাকেট ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলার দাম বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়।
সরকার ৪-২৫ অক্টোবর ইলিশ ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ করায় ইলিশ মাছ বিক্রেতাদের দেখা যায়নি বাজারে। আগের মতো গতকালও বেশি দামে অন্য মাছ বিক্রি হয়। কাচকি মাছের কেজি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা; কাজলি, ট্যাংরা, চিংড়ি, বাতাসি মাছ ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের রুই এবং কাতলা মাছও ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাবদা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা; পাঙাশ, তেলাপিয়া, সিলভার কার্প ২২০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আকারে ছোটগুলো ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়।
বিভিন্ন বাজারে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় ঠেকেছে ডজন। বিভিন্ন বাজারে আগের মতোই সোনালি মুরগির কেজি ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৭০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়।#