শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

রাকসু নির্বাচন, ভিপি শিবিরের জাহিদ, জিএস সাবেক সমন্বয়ক আম্মার

WP Import ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ১১:২৪ অপরাহ্ন
WP Import ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ১১:২৪ অপরাহ্ন
রাকসু নির্বাচন, ভিপি শিবিরের জাহিদ, জিএস সাবেক সমন্বয়ক আম্মার
রাকসু নির্বাচন, ভিপি শিবিরের জাহিদ, জিএস সাবেক সমন্বয়ক আম্মার

ছাত্রশিবিরের জয়জয়কার

নিজস্ব ও রাবি প্রতিবেদক:


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, হল সংসদ ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ফল ঘোষণা শেষ হয়েছে। এতে ভিপি হয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। আর জিএস হয়েছে আধিপত্যবিরোধী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার। এছাড়াও এজিএস হয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের এস এম সালমান সাব্বির।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার পর থেকে ফল ঘোষণা শুরু হয়। ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এফ নজরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) ভোটগ্রহণ শেষে রাত পৌনে ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোট গণনা শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৮টায় শেষ হয়।

ভিপি পদে মোস্তাকুর রহমান জাহিদ পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম প্যানেলের শেখ নূর উদ্দীন আবির পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৯৭টি ভোট।
১১ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে জিএস নির্বাচিত হয়েছেন আধিপত্যবিরোধী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী ও সাবেক সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী ফাহিম রেজা পেয়েছেন ৫ হাজার ৭২৯ ভোট।

অন্যদিকে ১ হাজার ৩০ ভোটে ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম প্যানেলের প্রার্থী জাহিন বিশ্বাস এশাকে হারিয়ে এজিএস নির্বাচিত হয়েছেন শিবির সমর্থিত প্যানেলের এসএম সালমান সাব্বির। সালমান সাব্বির পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭১ ভোট। এশা পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৪১ ভোট।
রাকসুর ২৩ পদের মধ্যে একটিতে জয় পেয়েছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল প্রার্থী। তিনি হলেন নার্গিস খাতুন। তিনি ক্রীড়া সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এছাড়াও স্বতন্ত্র থেকে জয়ী হয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ তোফা।

এছাড়া অন্যান্য পদগুলোতেও শিবির সমর্থিত জোটের প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন। সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে জাহিদ হাসান জ্বোহা, সহকারী সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে রাকিবুল ইসলাম, সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক পদে আবু সাঈদ নাঈম, নারী বিষয়ক সম্পাদক পদে সাঈদা হাফসা এবং সহকারী নারী বিষয়ক সম্পাদক পদে সামিয়া জান্নাত জয় পেয়েছেন।
তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদে নাজমুস সাকিব, সহকারী পদে সিফাত আবু সালেহ, মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে মুজাহিদুল ইসলাম, সহকারী পদে আসাদুল্লাহ হিল গালিব। বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন ইমরান লস্কর, সহকারী পদে নয়ন মুরসালিন। পরিবেশ ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে আবদুল্লাহ আল মাসুদ এবং সহকারী পদে মাসুমা ইসরাত মুমু মোমো নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যনির্বাহী সদস্য পদে জয়ী হয়েছেন দ্বীপ, সুজন চন্দ্র, ইমজিয়াউল আলি ও খালিদ হাসান।

রাকসু দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্ল্যাটফর্ম হতে পারে না: ভিপি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু), নবনির্বাচিত নেতাদের উদ্দেশে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেছেন, পদ উপভোগের বিষয় নয়, এটি একটি আমানত। দলমত–নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাকসু দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্ল্যাটফর্ম হতে পারে না।’
৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত রাকসু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে উপাচার্য এ কথা বলেন। তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাকসু প্রাণ ফিরে পেল। এই প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই জিতে গেছে।’

নবনির্বাচিত প্রার্থীদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উপাচার্য আরও বলেন, ‘অতি রাজনীতি যেন রাকসুর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত না করে।’
এর আগে সকালে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সালেহ্ হাসান নকীব সার্বিক আয়োজন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের মুখ থেকে যখন আমরা শুনি যে নির্বাচনটা ভালো হয়েছে, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ এবং ভোট গণনার সময়েও সব জায়গায় শান্তিশৃঙ্খলা ছিল, ছাত্র-ছাত্রীদের ভেতরে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল, তখন আমাদের শুনতে খুব ভালো লাগে।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘আমরা কেমন পেরেছি, সেটির বিচার আপনারা ও আমাদের ছাত্রছাত্রীরা করবে। তবে এখন পর্যন্ত যে প্রতিক্রিয়া দেখতে পাচ্ছি, সেটা খুব আনন্দময়।’ শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ছাত্রছাত্রীরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ছিল। তারা নিয়ম-কানুনের ভেতর দিয়ে নির্ভয়ে, নির্বিঘেœ, মুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে, যা খুবই আনন্দের।’
এই সফল আয়োজনের কৃতিত্ব পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে দিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘এর পেছনে বহু মানুষের প্রচ- হাড়ভাঙা পরিশ্রম আছে। আমাদের নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছেন। এটি একটি টিম এফোর্ট এবং আমরা তার সুফল পাচ্ছি।’

বিজিতদের নিয়ে ক্যাম্পাস গড়ে তোলার অঙ্গীকার ভিপির
রাকসুর নির্বাচিত ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে এক পদে অনেক যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এ সংখ্যাটা বেশি। বিজিতদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়েই এই ক্যাম্পাস গড়ে তুলবো। ফলাফল ঘোষণা শেষে শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অঙ্গীকার করেন মোস্তাকুর।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘এই সফলতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সব অংশীজন এবং সব সাবেক শিক্ষার্থীকে ধন্যবাদ জানাই। যারা ৩৫ বছর ধরে নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করেও রাকসু নির্বাচন পাননি, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট অনুযায়ী কাজ করব। যারা জয়ী হতে পারেননি, তাদের সংখ্যা বেশি। আশা করব, তারাও আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন। বিজিতদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়েই এই ক্যাম্পাস গড়ে তুলব।

মোস্তাকুর রহমান আরও বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে রাকসু নির্বাচন থেকে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাকসু হয়েছে। এখানে ছাত্রশিবির যেমন আন্দোলন করেছিল, পাশাপাশি অন্য ছাত্রসংগঠন, শিক্ষার্থীরাও এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিল। নানা জল্পনাকল্পনা, রাকসু বানচালকারী গোষ্ঠীর অপতৎপরতার বিরুদ্ধে গিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেটের বাইরে আমি একমুহূর্ত থাকব না: জিএস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেছেন, ‘আমার ম্যান্ডেট শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেটের বাইরে আমি একমুহূর্ত থাকব না, ইনশা আল্লাহ। আমি শিক্ষার্থীদের নিয়েই থাকতে চাই, শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করব, ইনশা আল্লাহ। আল্লাহ যে দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন, সেই দায়িত্ব আমি ইনশা আল্লাহ পালন করব।’
ফলাফল ঘোষণার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন থেকে বের হয়ে শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আম্মার। এ সময় তার মা রোকেয়া খানম সঙ্গে ছিলেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর সবার দোয়া চেয়েছেন তিনি। সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আজ থেকে এক বছর পরে দায়িত্ব পালন শেষে আপনারা আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন যে কেমন লাগছে। যদি দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালন করতে পারি, তাহলে হয়তো এভাবে সম্মানের সঙ্গে আপনাদের কাছে এসে বলতে পারব যে আমি এই এই দায়িত্ব পালন করেছিলাম। আর যদি দায়িত্ব পালন না করতে পারি…,! আল্লাহ এটা না করুক। যে সম্মান নিয়ে আজকে ঢুকছি, সেই সম্মানটা নিয়ে বের হতে চাই।’

এ সময় পাশেই থাকা আম্মারের মা রোকেয়া খানমের কাছেও অনুভূতি জানতে চান সাংবাদিকেরা। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ছেলের জন্য অনেক ভালো লাগছে। সর্বোপরি তার জন্য আমার সর্বোচ্চ দোয়াটাই আছে। আমি ছোটবেলা থেকে যে আদর্শ ও শিক্ষা দিয়ে তাকে মানুষ করেছি, আমি চাই সে সেই আদর্শ ও শিক্ষাটা পূর্ণ করে শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট অনুযায়ী সামনে কাজ করবে।’

১২টি প্যানেলকে হারিয়ে জয়ী সতন্ত্র প্রার্থী
একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন তোফায়েল আহমেদ তোফা। ১২টি প্যানেলের প্রার্থীদের হারিয়ে তার এই জয় এখন ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার বিষয়।
তোফায়েল আহমেদ তোফা জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামে। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত।
নির্বাচন কমিশনের ফলাফল অনুযায়ী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে তোফা পেয়েছেন ৬ হাজার ৭৮০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী হাচান হাওলাদার পেয়েছেন ৬ হাজার ৭৬৩ ভোট। মাত্র ২৭ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে তোফা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একমাত্র নির্বাচিত প্রতিনিধি হন।
বিজয়ের পর অনুভূতি জানাতে গিয়ে তোফায়েল আহমেদ তোফা বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নিয়েছেন। গ্রহণযোগ্যতা থাকলে প্যানেলের প্রার্থীদেরও হারানো সম্ভব—আমি তার প্রমাণ। প্রথমেই শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানাই। তাদের ভোটেই আমি নির্বাচিত হয়েছি। ইনশাআল্লাহ, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করে যেতে চাই।’

ছাত্রদল থেকে জাতীয় দলের খেলোয়াড় জয়ী
নির্বাচনে জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের প্রার্থী নার্গিস খাতুন ক্রীড়া সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ের কোনো খেলোয়াড় এই পদে নির্বাচিত হলেন।
নার্গিস খাতুন এবারের রাকসু নির্বাচনে ছত্রদলের প্যানেল থেকে একমাত্র জয়ী প্রার্থীও। রাজশাহী (রাবি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তিনি।

জয়ী হলেন জুলাই আন্দোলনে চোখ হারানো দ্বীপ
নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ছাত্রশিবির মনোনীত প্যানেল ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল থেকে বিজয়ী হয়েছেন জুলাই আন্দোলনে চোখ হারানো আইবিএ’র শিক্ষার্থী দ্বীপ মাহবুব।
বিজয়ী হওয়ার পর দ্বীপ মাহবুব বলেন, জুলাই আন্দোলনে আমি আমার চোখ হারিয়েছি। শিক্ষার্থীরা আমাকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করেছেন। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমি চাই যে কারণে আমি চোখ হারিয়েছি, সেই উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করে যাব।

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পাবনা শহরে শিক্ষার্থীদের মিছিলে অতর্কিত গুলি চালায় আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ খান ও তার সহযোগীরা। এ সময় দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। আহত হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী দ্বীপ মাহবুবসহ আরও অনেক শিক্ষার্থী। দ্বীপ মাহবুবের চোখে গুলি লেগে তার চোখ ভেদ করে মস্তিষ্কে চলে যায়। দীর্ঘ ৫ মাস চিকিৎসা শেষে আবারও ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। তবে তার বাম হাত ও পা প্যারালাইজড হয়ে যায়।

ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে বিজয়ী হলেন সুজন চন্দ্র
ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন হিন্দু ধর্মালম্বী শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাসা দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলায়।
হিন্দু ধর্মাবলম্বী হয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট থেকে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সুজন চন্দ্র বলেন, শিবিরের প্যানেলে আসার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল তাদের আদর্শ ও নীতিবোধ আমাকে সবসময় আকর্ষণ করে। ছাত্রশিবির সবসময় মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষাবান্ধব কার্যক্রমে তারা এগিয়ে। সেখান থেকে দাঁড়িয়ে আমি নির্বাচিত হয়েছি। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে ১৭ হলের শিক্ষার্থীরা ভোট দেন। দিনভর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে বিকেলে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। পরে এর সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর রাত পৌনে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ভোট গণনা শুরু হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নারী হল দিয়ে ফলাফল ঘোষণা শুরু হয়।
নির্বাচনে ১০টি প্যানেলসহ রাকসুর ২৩ পদে ২৪৭ জন, হল সংসদে ১৫ পদে ১৭টি হলে ৫৯৭ প্রার্থী এবং সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ৫ পদে ৫৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ভিপি পদে ১৮ জন, জিএস পদে ১৩ জন ও এজিএস পদে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০১। এর মধ্যে ছাত্রী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ জন ও ছাত্র ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন। নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এর মধ্যে ছয়টি নারী হলে ভোট পড়ার হার ৬৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।