নিজ বাড়ির ভিটা রক্ষায় সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাকনহাট পৌরসভার সেরাপাড়া গ্রামের একটি পরিবার নিজ বাড়ির ভিটা রক্ষায় সংবাদ সম্মেলন করেছে। সংবাদ সম্মেলনের অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় যুবলীগ নেতা আব্দুল্লাহীল কাফী পৈত্রিক বাড়ির ভিটা দখল করার পাঁয়তারা ও প্রাণনাশের হুমকি এবং একের পর এক ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করছে।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভিটার এক অংশের মালিক আনোয়ার হোসেনের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বার শতক ভিটা জমি তার দাদি মৃত ছানোয়ার বিবির। পরে তিনি জীবিত থাকাকালীন সময়ে তার বাবা আনোয়ার হোসেন ও ছোট চাচা দেলোয়ার হোসেন রিপনের নামে ১১ শতক ভিটা জমি সমান ভাগে ভাগ করে দেন। অবশিষ্ট ১ শতক মসজিদের নামে দিয়ে দেন। পরে আমরা বাবা ও চাচা তাদের নিজ নিজ অংশ খারিজ ও খাজনা পরিশোধ করে আসছেন। এক সময়ের চরমপন্থি ও পরে যুবলীগ করা স্থানীয় নেতা আব্দুল্লাহীল কাফী আমাদের ওই বার শতক বাড়ির ভিটা জবর দখল করার জন্য অনেকদিন ধরে পাঁয়তারা করছে।
তিনি বলেন, কাফী তার দাদির নামে ২০১৬ সালে রাজশাহী জজ কোর্টে মামলা করেন। ২০১৮ সালে ৩০ এপ্রিল দাদি ইন্তেকাল করেছেন। তিনি মারা গেলেও মামলা এখনো চলমান আছে। তারা বাবা এবং চাচা ভিটা থেকে অন্য জায়গায় বাড়ি করেছেন। এখন ওই বাড়ির ভিটায় তারা গাছ রোপনসহ অন্যান্য কাজ করবেন। কিন্তু কাফি করতে দিচ্ছেনা। শুধু তাইনয় তার দাদার বাড়ি ফাঁকা পেয়ে অনেক আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী কাফীরা নিয়ে চলে গেছেন।
এখানেই শেষ নয় কাফী একজন মামলাবাজ ব্যক্তি। শুধু আমাদের নামেই মামলা নয় অনেক লোকের জমি ও পুকুর দখল করার জন্য মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে আসছে। তার বাবা ও চাচার নামে মামলা চলমান আছে। আবারও ২৫ সেপ্টেম্বর দাদা, বাবা, চাচা, মা, চাচির নামে গোদাগাড়ী থানার আমলী আদালতে মারপিট ও ঘরের মধ্যে থাকা স্বর্ণাংকার লুটের মামরা দায়ের করেছে। অথচ ওইদিন বাবা ও চাচা বাদী কাফী রাজশাহী জজ কোর্টে হাজিরা দেয়ার জন্য একইসাথে উপস্থিত ছিলেন। যার প্রমাণ হচ্ছে আইনজীবীর ওকালত নামার স্বাক্ষর।
তিনি চলতি মাসের ৫ তারিখ তাদের নামে সাত ধারায় আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। আগের মামলাগুলো চলমান আছে। সেগুলোর রায় না হতেই একের পর এক আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করছেন। কাফী কাফী ২০০২ সালে সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্ট অভিযানে তালিকাভুক্ত আসামি ছিলেন পরবর্তীতে ২০১৭ সালে তিনি কাফী বাহিনী নামে সন্ত্রাসী দল গঠন করে কাকনহাট পৌরসভার সরকারি গম লুট করে, যা এখনো আদালতে বিচারাধীন। এ নিয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানায় করলেও বাদী এখনো বিচার পাননি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আব্দুল্লাহীল কাফীর সঙ্গে মোবাইলে বেশ কয়েকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।