বিদেশে উচ্চশিক্ষায় অনিশ্চয়তা, সহজ গন্তব্য অস্ট্রেলিয়ায় হঠাৎ কড়াকড়ি
ইউরোপের দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভিসা ইস্যু। অনেক দেশের ভিসা আবেদন ধীরগতিতে থাকায় আর দূতাবাস ঢাকায় না থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়েছেন জটিলতার মধ্যে। এসব খড়গের মধ্যেও অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রচুর সুযোগ দিয়েছিল গত এক বছর।
তবে এই বছর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের জন্য কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। ‘নথিপত্র সংক্রান্ত স্বচ্ছতার অবনতি’ সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় মোট আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই চারটি দেশ থেকে এসেছিল। এ দেশগুলোর অবস্থান ‘এভিডেন্স লেভেল ২’ থেকে ‘এভিডেন্স লেভেল ৩’-এ নামিয়ে আনা হয়েছে। এতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা স্ক্রিনিং এবং ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কঠোরতা পালন করা হবে।
চালু করা যায়নি বন্ধ শ্রমবাজার
রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মীরা ১৪১টি দেশে অভিবাসন করেছেন। তবে এর ৯০ শতাংশই গেছেন মাত্র পাঁচটি দেশে। ১৪টি দেশে গেছেন মোট অভিবাসীর ৮ শতাংশ।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর দেওয়া তথ্যমতে, গত ১২ বছরে বন্ধ হয়েছে বেশ কয়েকটি বড় শ্রমবাজার। বাংলাদেশ থেকে ওমান, বাহরাইন, ইরাক, লিবিয়া, সুদান, মালয়েশিয়া, মিসর, রোমানিয়া, ব্রুনাইয়ে শ্রমিক রফতানি স্থগিত রয়েছে। এর বাইরে ইতালির শ্রমবাজারে ওয়ার্ক পারমিট যাচাইয়ের কাজে ধীরগতি চলছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ভিসা ইস্যু বন্ধের কারণে কর্মী যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। লিবিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মী যাওয়া শুরু হয়নি। এছাড়া মরিশাস বাংলাদেশিদের খুব কম সংখ্যক ভিসা দিচ্ছে।
তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, শুধু মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক শ্রমবাজারে আটকে থাকতে চাই না। বাংলাদেশের শ্রমবাজার নিয়ে সেভাবেই কাজ করা হচ্ছে।
অভিবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন সম্ভাবনাময় বাজার ধরতে না পারলে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে দেশের অভিবাসন খাত।
প্রত্যাশা অনুযায়ী শ্রমবাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি বলে মনে করেন জনশক্তি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) নেতা ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘‘বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্য। কারণ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার বন্ধ।
বেশির ভাগ কর্মী সৌদি যাচ্ছেন। সেখানেও আকামার সমস্যা আছে, আকামা না পাওয়ায় অনেকে অবৈধ হয়ে পড়ছেন। আমিরাত, বাহরাইন, ওমানের মতো বাজারগুলো কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে চালু করা দরকার। কোনও সিন্ডিকেট যাতে তৈরি না হয়, সে ব্যাপারেও নজর দিতে হবে। মালয়েশিয়া আমাদের অন্যতম বড় শ্রমবাজার। কিন্তু বাজারটি বন্ধের প্রায় দেড় বছরেও চালু করা যায়নি।’’
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ড. মো. জালাল উদ্দিন শিকদার বলেন, ‘‘সরকারি-বেসরকারি খাতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার নিয়ে দেশে ও বিদেশে যেসব গবেষণা হয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। ফলে ইউরোপে বিভিন্ন খাতে দক্ষ বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাহিদা ঠিক কতখানি এবং ভবিষ্যতে এই চাহিদার কোনও পরিবর্তন হবে কিনা, এ সম্পর্কে আমাদের কাছে পরিষ্কার কোনও ধারণা নেই।’’
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন