পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তিন টেস্ট জয়
অভিনন্দন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে
পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তিন টেস্ট জয়। দেশের মাটিতে প্রথম। সে হিসাবে পাকিস্তানের বিপক্ষে এ জয়টাকে ঐতিহাসিকই টেস্ট বলতে হবে। মঙ্গলবার (১২ মে) মিরপুর পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই মহাকাব্যিক জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন।
মিরপুর টেস্ট জিততে পাকিস্তানকে দ্বিতীয় ইনিংসে করতে হতো ২৬৮ রান। পাকিস্তান গুটিয়ে গেছে ১৬৩ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ম্যাজিকাল বোলিং করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছেলে নাহিদ রানা। আগুনঝরা বোলিংয়ে নাহিদ ৪০ রানে নেন ৫ উইকেট, যা তার ক্যারিয়ারসেরা। টেস্ট ক্যারিয়ারে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ৫ উইকেট নিলেন নাহিদ রানা। দ্বিতীয় ইনিংসে অন্যরাও তাদের কাজটা করেন। নাটোরের ছেলে তাইজুল ও তাসকিন নেন দুটি করে উইকেট। মিরাজ নেন ১ উইকেট।
পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয়ের জন্য ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এ দুই দশকেরও বেশি সময়ে টানা ১১টি ম্যাচ হেরেছে টাইগাররা। অবশেষে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে মিলেছে প্রথম জয়ের দেখা। দুই ম্যাচের ওই সিরিজে ২-০ ব্যবধানেই জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার মিরপুর টেস্টেও পাকিস্তানকে হারালেন শান্তরা।
হারের পর পাকিস্তান শুধু সিরিজেই পিছিয়ে পড়েনি, ধাক্কা খেয়েছে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলেও। এই জয়ের সুবাদে লাভ হয়েছে ভারতের। তাই টাইগারদের জয়ে খুশি তারা। এক ধাপ এগিয়ে ভারত এখন পাঁচ নম্বরে, আর পাকিস্তান নেমে গেছে সপ্তম স্থানে। অন্যদিকে বাংলাদেশ উঠে এসেছে ষষ্ঠ অবস্থানে।
রাজশাহীর ছেলে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল তিন টেস্ট শেষে পেয়েছে ৪৪.৪৪ শতাংশ পয়েন্ট। অন্যদিকে সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে ৩৩.৩৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তান নেমে গেছে সপ্তম স্থানে। বাংলাদেশের জয়ে এক ধাপ পিছিয়েছে ইংল্যান্ডও। বেন স্টোকসের দল এখন অষ্টম স্থানে। ১০ ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট শতাংশ ৩১.৬৭। তালিকার শেষ দিকে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ আট টেস্ট শেষে পেয়েছে মাত্র ৪.১৭ শতাংশ পয়েন্ট। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিটি জয়ের জন্য ১২ পয়েন্ট দেওয়া হয়। ম্যাচ ড্র হলে দুই দলই পায় ৪ পয়েন্ট করে। অর্জিত পয়েন্ট ও সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পয়েন্টের হিসাব থেকেই নির্ধারণ করা হয় প্রতিটি দলের পয়েন্ট শতাংশ।
মঙ্গলবার মিরপুরের শেষ বিকেলের আলো যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। গর্জনে ফেটে পড়েছিল গ্যালারি, উৎসবে মেতেছে বাংলাদেশ। এই উৎসব আছে পুরো ম্যাচে দাপট দেখানোর তৃপ্তি, ঐতিহাসিক জয় তুলে নেওয়ার গৌরব। পুরো ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিংয়ে র্কর্তৃত্ব ধরে রাখা বাংলাদেশ পরিকল্পনায় মুনশিয়ানা দেখানোর পাশাপাশি নিয়েছে সাহসী সিদ্ধান্তও। যা সচরাচর বাংলাদেশকে করতে দেখা যায় না। আছে অন্য মাহাত্ম্যও, এবারই প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জিতল তারা। ২০২৪-এ রাওয়ালপিন্ডিতে যেভাবে দুই টেস্ট জিতে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ, ১৬ মে থেকে সিলেটের মাঠে তার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাইবেন এখন শান্তরা।