বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬

সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে আইন শিথিল

সোনার দেশ ডেস্ক ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ০৯:৫৯ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ০৯:৫৯ অপরাহ্ন
সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে আইন শিথিল

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপের পাঁচটি খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে তিন হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণ দিতে ব্যাংক কোম্পানি আইনের একটি ধারা স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। এর ফলে খেলাপি হওয়ার কারণে নতুন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে যে আইনি বাধা ছিল, তা আর থাকছে না।


বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদের স্বাক্ষরে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিটি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে এ ঋণসুবিধা দিতে সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গঠন করা হবে।


প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, সিটি ডাল মিলস লিমিটেড ও শম্পা ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেড। এসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রস্তাবিত তিন হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭ কক (৩) ধারা প্রযোজ্য হবে না।


সাধারণত ব্যাংক কোম্পানি আইনের এই ধারা অনুযায়ী, খেলাপি ঋণগ্রহীতাকে নতুন করে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে সিটি গ্রুপের পাঁচ প্রতিষ্ঠানের জন্য আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ধারাটি স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে তীর ব্র্যান্ডের পণ্য বাজারজাতকারী শিল্পগোষ্ঠীটির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে চলতি মূলধন ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।


তবে নতুন ঋণসুবিধার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ঋণের বিপরীতে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে সিটি ব্যাংক কিংবা সিন্ডিকেটের অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ ঋণের বিপরীতে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না। ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সিটি গ্রুপকে এমন সম্পত্তি রেজিস্টার্ড মর্টগেজ হিসেবে দিতে হবে, যা অন্য কোনো ঋণ বা দায়ের বিপরীতে দায়বদ্ধ নয়।


প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সিন্ডিকেটেড ঋণের অর্থে কেনা পণ্য বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে। ওই হিসাব থেকে আনুপাতিক হারে সিন্ডিকেটের ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর পাওনা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে।


এ ছাড়া সিন্ডিকেটেড ঋণের অর্থে আমদানি করা কাঁচামাল ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণদাতা ব্যাংকগুলো সিকিউরিটি এজেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে কিনবে এবং জিম্মাদার হিসেবে তা প্রক্রিয়াজাত করবে। এসব শর্তের মাধ্যমে নতুন ঋণের অর্থের ব্যবহার, কাঁচামালের ব্যবস্থাপনা ও বিক্রয়লব্ধ অর্থের ওপর ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার কথা বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।


সিটি গ্রুপের কাছে দেশের ৪৩টি ব্যাংকের পাওনা ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। এসব ঋণের বড় অংশ ইতিমধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে।


তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা অনলাইন