বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ০৫, ২০২৬

লোকসানের আশংকায় হিমাগার থেকে আলু উত্তোলনে অনীহা বগুড়ার কৃষকদের

বগুড়া প্রতিনিধি: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ১২:৩৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বগুড়া প্রতিনিধি: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ১২:৩৮ অপরাহ্ন
লোকসানের আশংকায় হিমাগার থেকে আলু উত্তোলনে অনীহা বগুড়ার কৃষকদের

বগুড়ার শিবগঞ্জে আলুচাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, হিমাগার থেকে আলু বের করে বিক্রির পর অর্ধেকের বেশি টাকাও উঠছে না। গত বছর লোকসান গুনেও যারা এ বছর চড়া সুদে ঋণ নিয়ে হিমাগারে আলু রেখেছিলেন, তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন এবারও দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে। বাজারে আলুর দাম পড়ে যাওয়ায় লোকসানের চরম আশঙ্কায় অনেক কৃষক এখন হিমাগার থেকেই আলু উত্তোলন করতে চাচ্ছেন না।

কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়েছে প্রায় ১৭ টাকা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে হিমাগার ভাড়া, বস্তা, প্যাকিং ও পরিবহন খরচ। অথচ বর্তমানে বাজারে পাইকারিতে সেই আলু পানির দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আলু চাষী আজিজুর রহমান জানান, তিনি ২০০ বস্তা আলু হিমাগারে রেখেছেন। বস্তাপ্রতি তার খরচ ১ হাজার ৯৫০ থেকে ২ হাজার টাকা, অথচ বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকায়। এতে প্রতি বস্তায় প্রায় ৮০০-৯০০ টাকা লোকসান হচ্ছে।

আরেক আলু চাষী মাহাবুর রহমান বলেন, হিমাগারে স্টিক আলু বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা আর হিমাগার ভাড়া ৪০০ টাকা। সব মিলিয়ে এবারো লোকসান।

আলু ব্যবসায়ী আবু সাঈদ সরদার বলেন, স্টিক আলুর বস্তা প্রতি খরচ হয়েছে ১১শ টাকা, বর্তমানে হিমাগারের গেটে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৬০০ টাকা। বস্তা প্রতি লোকসান প্রায় ৫০০ টাকা। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমরা ব্যবসায়ীরা পথে বসে যাবো। তাইতো হিমাগার থেকে প্রতি কেজি ‘স্টিক’ আলু ১১ টাকা এবং ‘পাগরী’ আলু ২০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

শিবগঞ্জ  নিউ কাফেলা কোন্ড স্টোরের ম্যানেজার মিলটল মিয়া বলেন, তাদের হিমাগারে ধারন ক্ষমতা ১ লক্ষ ৫০ হাজার বস্তা। এখনো আলু মজুদ আছে হাজার ৫৪ বস্তা। বাজারে চাহিদা কম থাকায় আলু এখনো মজুদ আছে। হিমাগারে আলু রাখার সময়সীমা আগামী ১৫ তাং পর্যন্ত। উপজেলার ১৭টি হিমাগারের অবস্থা একই।

বাজারে আলুর চাহিদা কম থাকায় এবং কৃষকরা লোকসানের ভয়ে আলু না তোলায় বিপাকে পড়েছেন হিমাগার মালিকরাও। বিদ্যুতের চড়া দাম ও কোল্ড স্টোরেজ পরিচালনার উচ্চ ব্যয়ের কারণে মালিক সমিতি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোল্ড স্টোরেজ খালি করার জন্য আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে আলু তোলার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলু না তুললে কমিটির মাধ্যমে সেসব আলু বিক্রি করে দেওয়া হবে মর্মে ইতোমধ্যে কয়েকটি হিমাগারে নোটিশও টাঙানো হয়েছে।

চলতি মাসের শেষ দিক থেকেই বাজারে নতুন আলু উঠতে শুরু করবে। নতুন আলু বাজারে আসলে বর্তমান পুরানো আলুর দাম আরও তলানিতে ঠেকতে পারে—এই আশঙ্কায় কৃষকরা আরও বেশি আতঙ্কিত।

সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ার কারণে এমনিতেই কোণঠাসা ছিলেন চাষিরা। এর ওপর হিমাগার ভাড়ার বোঝা এবং কাঙ্ক্ষিত বাজারমূল্য না পাওয়ায় শিবগঞ্জের আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়ের চাকা থমকে গেছে। এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় কৃষকরা।